সোমবার, জুন ১, ২০২৬

‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ অর্জন করেছে। যা দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা ও দক্ষতার একটি শক্তিশালী প্রমাণ বলছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

গত সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দরে ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ অর্জনের পর থেকে অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ধারাবাহিকভাবে জিরো ওয়েটিং টাইম বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। পরবর্তীতে জানুয়ারি মাসের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ভাগে কর্মবিরতি ও অন্যান্য কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের এই কার্যক্রমে কিঞ্চিৎ ছন্দপতন হলেও পুনরায় পুরোদমে কার্যক্রম চলমান থাকার ফলে জিরো ওয়েটিং টাইম বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।

তিনি বলেন, এ অর্জনের ফলে জাহাজগুলো আর বহির্নোঙরে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়নি, ফলে টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কমেছে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে। ব্যবসায়িক ব্যয় কমেছে, সরবরাহ চেইন হয়েছে আরও নির্ভরযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এটি স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে যে সমন্বিত পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কার্যকর সহযোগিতা থাকলে চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বমানের সেবায় পৌঁছাতে সক্ষম।

এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ কেবল একটি অর্জন নয়, বরং চট্টগ্রাম বন্দরের একটি স্থায়ী বৈশিষ্ট্যে পরিণত হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে। 
চট্টগ্রাম বন্দর ঈদের ছুটির বন্ধেও ২৪ ঘণ্টা ৭ দিন অপারেশনাল কার্যক্রম চালু রেখেছিল। ঈদের আগে জাহাজের ওয়েটিং টাইম ৩ থেকে ৫ দিনে উন্নিত হলেও কর্তৃপক্ষের সার্বিক মনিটরিং এবং সমন্বয়ের ফলে আউটার অ্যাংকরেজে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় পুনরায় শুন্য দিন অর্জন সম্ভব হয়েছে। এতে জাহাজ দ্রুত পণ্য লোড আনলোড করে চলে যেতে পারে।

শিপিং কোম্পানির সময় ও খরচ কমে। আমদানিকারক দ্রুত পণ্য পায় এবং রপ্তানিকারক সময়মত পণ্য পৌঁছাতে পারে। লজিস্টিকস খরচ কমে যাওয়ার ফলে পণ্যের বাজার মূল্য কমে যায়, ভোক্তারা কম মূল্যে তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যাদি কিনতে পারে। 

রমজান মাসের শুরু থেকেই দেশের সাপ্লাই চেইন সরবরাহ সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দর জাহাজের ওয়েটিং টাইম শূন্য রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যহত রেখেছে। আর ঈদের ছুটির মধ্যেও ওয়েটিং টাইম শূন্য রাখতে অপারেশনাল শাখার কর্মকর্তা কর্মচারীদের ঈদের ছুটিতে রোস্টার ডিউটি নির্ধারণ করা হয়।

একই সাথে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনায় চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট সদস্যসহ সব বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ, বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা এবং সুষ্ঠ বাস্তবায়নের ফলেই এই ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে চট্টগ্রাম বন্দরে জিরো ওয়েটিং টাইম বজায় রাখা এবং আমদানি রপ্তানি কার্যক্রমে আশানুরূপ গতি বজায় থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পর্কিত খবর

ত্যাগ, সাম্য ও মানবিকতার মহিমায় আজ দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদ উল আযহা

আজ মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ উল আযহা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে ত্যাগের অনন্য শিক্ষা ধারণ করে বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা গভীর...

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের শুভেচ্ছা জানালেন এমপি সাঈদ আল নোমান

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সকল গণমাধ্যমকর্মী, সম্পাদক, সাংবাদিক এবং সংবাদপত্র শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সংসদ সদস্য সাঈদ...

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানানোয় জবাবে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার...

দেশবাসীকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন জনাব তারেক রহমান। মঙ্গলবার ২৬ মে...

চট্টগ্রাম স্টেডিয়াম মাঠে ঈদ-উল আযহার জামাতে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদ-জামাত কমিটির উদ্যোগে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম মাঠে পবিত্র ঈদ-উল আযহার প্রধান জামাত...

বাংলাদেশের জন্য এডিবির ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা

বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতের লক্ষ্যে বাংলদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এডিবি। আজ...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত