মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ভাষায় ভয়ংকর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “ইরানকে ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল চুক্তি করার জন্য অথবা হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়ার জন্য। সময় ফুরিয়ে আসছে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের উপর সমস্ত নরক নেমে আসবে। ঈশ্বরের জয় হোক!” এই কড়া বার্তার পর পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
চলতি ইরান যুদ্ধের ষষ্ঠ সপ্তাহে এই আলটিমেটাম নতুন করে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল সরবরাহের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট। বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ তেল এই সরু প্রণালী দিয়ে যায়। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই তারা এই প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে বা হুমকি দিয়ে অস্থির করে তুলেছে। ফলে আন্তর্জাতিক তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে, ইউরোপ-এশিয়ার অর্থনীতিতে ধাক্কা লেগেছে।
ট্রাম্প বলছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী না খোলে বা শান্তি চুক্তিতে না আসে, তাহলে আমেরিকা তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানবে শুরুতে সবচেয়ে বড়টিকে। “আমরা তাদের পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো ধ্বংস করে দেব,” এমন হুঁশিয়ারি আগেও দিয়েছিলেন তিনি। ইরানের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের জেনারেল আলি আব্দোল্লাহি আলিয়াবাদি এই হুমকিকে “অসহায়, নার্ভাস, ভারসাম্যহীন ও বোকামি” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, যদি আমেরিকা বা ইসরায়েল তাদের পরিকাঠামোতে আঘাত করে, তাহলে পুরো অঞ্চলকে “নরকে” পরিণত করা হবে। তারা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জ্বালানি ও জল ব্যবস্থায় পাল্টা আঘাতের হুমকি দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে ট্রাম্পের এই নতুন হুমকি যুদ্ধ বন্ধে কোনো কাজেতো আসবেই না, বরং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটাবে। সংশ্লিষ্টদের মতে যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব এবং হামলার হুমকি একইসাথে মানানসই নয়। বিশ্লেষকদের মতে ইরানি কতৃপক্ষ নিজেদের সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে না করলে কখনোই ট্রাম্পের যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাবে আগ্রহ দেখাবেনা।
