চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সন্তান প্রসবকৃত অসহায় ভবঘুরে প্রসূতি মা মোছাম্মৎ শাহনাজ বেগম শেলী ও তার ৫ দিন বয়সী অসুস্থ নবজাতকের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তিনি অসুস্থ নবজাতককে দেখতে হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের নিউনেটোলজি বিভাগে ছুটে যান। এ সময় শিশুটির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং প্রসুতি মায়ের হাতে নগদ টাকা, জামা কাপড়, বেড বিছানা ও সামগ্রী খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন ডিসি।
গত ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার গর্ভজনিত তীব্র ব্যাথা নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে ভর্তি হন অসহায় ভবঘুরে মোছাম্মৎ শাহনাজ বেগম শেলী (২২)। পরবর্তীতে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে শাহনাজ কন্যা সন্তান প্রসব করেন। জন্মের পর পর শিশুটি জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ায় গতকাল ২০ এপ্রিল সোমবার রাতে হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের নিউনেটোলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়। ঐদিন থেকে নবজাতকটিকে ফটোথেরাপীর মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। শিশুটিকে বাঁচাতে অসহায় প্রসূতি মায়ের আকুতির কথা শুনে সহযোগিতা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে গিয়ে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন ডিসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। চমেক হাসপাতালের নিউনেটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শাহীনসহ ওয়ার্ডের অন্যান্য চিকিৎসক ও জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগন এসময় উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, গত ১৬ এপ্রিল অসহায় ভবঘুরে মোছাম্মৎ শাহনাজ বেগম শেলী হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরবর্তীতে সিজারের মাধ্যমে একটি বাচ্চা জন্মগ্রহণ করে। এর পর তার স্বামী তাকে রেখে পালিয়ে যায়। এ খবর আমাদের কাছে আসার পর এবং বাচ্চাটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার সুচিকিৎসার ব্যাপারে হাসপাতাল পরিচালক মহোদয়ের সাথে আলাপ করি। তিনি সাথে সাথে বাচ্চাটিকে এনআইসিইউতে নিয়ে এসে ফটোথেরাপীসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বাচ্চাটি এখন পুরোপুরি সুস্থ বলে পরিচালক মহোদয় আশ্বস্ত করেছেন এবং বাচ্চাটি তার মায়ের কাছে দিয়ে দেবে। আমরা বাচ্চার মাকেও দেখতে এসেছি, মাও সুস্থ আছে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাপড়-চোপড়, এক মাসের খাবার ও সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করেছি। বাচ্চাটির বাবা চলে গেলেও আমরা তাদের পাশে আছি। রাষ্ট্র সবসময় অসহায় মানুষের পাশেই থাকে।
জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা ও অন্যান্য উপহার সামগ্রী পাওয়ার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেন নি প্রসূতি মা মোছাম্মৎ শাহনাজ বেগম শেলী। তিনি বলেন, এত ব্যস্ততার মাঝেও ডিসি স্যার আমাকে ও আমার বাচ্চার চিকিৎসার খোঁজ নিতে এসেছেন। উনি মানবিক না হলে নিশ্চয়ই আমার মতো অসহায় ও ঠিকানাবিহীন মানুষের পাশে দাঁড়াতেন না। উল্লেখ্য,ভোলা জেলার লালমোহন থানা এলাকার বাসিন্দা মোছাম্মৎ শাহনাজ বেগম শেলী ছোটকালে চট্টগ্রাম এসে গার্মেন্টেসে চাকুরী নেন। এরপর ভালাবেসে বিয়ে করে স্বামীকে নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর আইস ফ্যাক্টরী রোডের একটি বাসায় থাকতেন। কিছুদিন সংসার করার পর গর্ভবতী হয়ে উঠলে শাহনাজের স্বামী পালিয়ে যায়। এর পর থেকে ভবঘুরের মত দিন কাটাতো ঠিকানাবিহীন অসহায় মোছাম্মৎ শাহনাজ বেগম শেলী।
