বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬

বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি চূড়ান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সই করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যা রাজধানী ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। একসঙ্গে এতগুলো উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। যদিও চুক্তি অনুযায়ী আগামী কয়েক বছরে ধাপে ধাপে এই উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হবে।

চুক্তির আওতায় বিমান ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কিনবে, যার মধ্যে রয়েছে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। আনুমানিক ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলারের এই বিনিয়োগ দেশের বিমান খাতে অন্যতম বৃহৎ ক্রয়চুক্তি এবং বাংলাদেশি টাকায় এই চুক্তির মূল্যায়ন প্রায় ৩৭ হাজার কোটি। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের অক্টোবর মাসে সরবরাহ করা হতে পারে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৩টি উড়োজাহাজ হস্তান্তর সম্পন্ন হবে।

বিমানের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির এমডি ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন, বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ. হোসেনসহ বিমান ও বোয়িংয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি বলেন, ‘১৪টি উড়োজাহাজ কেনার এই চুক্তি দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে। নতুন ৭৮৭-১০ মধ্যপ্রাচ্য রুটে এবং ৭৮৭-৯ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ দূরত্বের রুটে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি ৪টি ৭৩৭-৮ বিমান যুক্ত হওয়ায় বিমানের স্বল্প দূরত্বের রুট আরও আধুনিক হবে। এসব বিমান প্রায় ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং যাত্রীদের জন্য উন্নত সুবিধা দেবে।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ইউরোপভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। তখন বোয়িংও বাংলাদেশে উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব পেশ করে। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পূর্বেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর স্বাভাবিকভাবে বিমানের উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ থেমে যায়। পরবর্তীতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ফের বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মার্কিন শুল্কনীতিতে বাণিজ্য ঘাটতি সমন্বয় করতে গিয়ে তা দ্রুতই এগোতে থাকে। জাতীয় নির্বাচনের আগেই চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে চুক্তি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেই চুক্তির পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন হলো এই চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে।

সম্পর্কিত খবর

প্রতিটি নিরন্ন মানুষের কাছে ইনশাআল্লাহ খাবার পৌঁছে দেবে তারেক রহমান : প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য

চট্টগ্রাম : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এর সরকার চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে আছে, থাকবে। দুর্গত মানুষের যেকোন প্রয়োজনে সরকার...

মেসির অসাধারণ নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ইংল্যান্ড ১ : ২ আর্জেন্টিনা সেই পরিচিত দৃশ্যপট। আর্জেন্টিনা পিছিয়ে এবং নিশ্চিত হারের মুখে। কিন্তু খেলার শেষ ভাগে অন্তিম সময়ের নিকটে মেসি বাহিনী প্রবল শক্তিশালী...

পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে : সাতকানিয়ায় ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সাতকানিয়া উপজেলায়। পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগের...

চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের তিন দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ

চট্টগ্রাম : বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং তাদের ক্যালকুলেটর ও জরুরি কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা...

চট্টগ্রাম কর্ণফুলীতে সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার ছড়িয়ে যুবক গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম কর্ণফুলী থানাধীন সাবেক স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ( ফেসবুকে) প্রকাশ এবং ভুয়া আইডি খুলে মানহানিকর তথ্য প্রচারের...

যেখানে মানুষের কষ্ট, সেখানেই আমার দায়বদ্ধতা : জনাব সাঈদ আল নোমান এমপি

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম ১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেছেন, “যেখানে মানুষের কষ্ট, সেখানেই আমার দায়বদ্ধতা। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু দায়িত্ব...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত