আটলান্টায় অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘এইচ’-এর ম্যাচে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবল পরাশক্তি স্পেন বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এ নিজেদের স্বরূপে ফিরেছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ড্রয়ের ধাক্কা ভুলে এইদিন দারুণ দাপটের সাথে পুরো খেলা নিয়ন্ত্রণ করেছে বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন ও সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন।
একই সাথে স্পেনের ফুটবল ইতিহাসেও দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম বিশ্বকাপ গোলদাতা এখন ইয়ামাল (তার ওপরে আছেন কেবল জাভি, ১৮ বছর ১১০ দিন)। আর সর্বকালীন রেকর্ডটি এখনো অক্ষুণ্ণ রয়েছে ফুটবল সম্রাট পেলের (১৭ বছর ২৩৯ দিন) দখলে।
ইয়ামালের উদ্বোধনী গোলের পর সৌদি আরবকে আর দাঁড়াতেই দেয়নি স্পেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে দলের পক্ষে বাকি দুটি গোলই করেন মিকেল ওয়াইরসাবাল। একটি কর্নার কিক থেকে তৈরি হওয়া জটলা থেকে দানি ওলমো দারুণ এক ফ্লিকে বল বাড়িয়ে দেন সিক্স-ইয়ার্ড বক্সের দিকে। সৌদি ডিফেন্ডাররা বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে এমেরিক লাপোর্ত মাথা ছুঁইয়ে বলের দিক বদলে দেন। একদম ফাঁকায় বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় প্রথম গোলটি করেন ওয়াইরসাবাল।
ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের গোলবন্যা অবশ্য সেখানেই থামেনি। এর কিছুক্ষণ পরই মাঠের এক প্রান্ত থেকে উড়ে আসা এক কোণাকুণি ক্রস দারুণ দক্ষতায় বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন মার্ক কুকুরেয়া। সেখান থেকে দানি ওলমোর বাড়িয়ে দেওয়া বলে নিখুঁত শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের স্কোরলাইন ৩-০ করেন ওয়াইরসাবাল। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে স্পেন।
প্রথমার্ধেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়া সৌদি আরব দ্বিতীয়ার্থের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায়। এবার অবশ্য নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে বসে তারা। ৪৯ মিনিটে মার্ক কুকুরেয়ার একটি দুর্দান্ত ভলি সৌদি গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও তা ডিফেন্ডার হাসান আল তামবাকতির শরীরে লেগে জালে ঢুকে যায়। এই আত্মঘাতী গোলের ফলে স্পেনের লিড দাঁড়ায় ৪-০ তে। উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপে এটি অষ্টম আত্মঘাতী গোল। বিশ্বকাপের এক আসরে এর চেয়ে বেশি আত্মঘাতী গোল (১২টি) হয়েছিল কেবল ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে।
সৌদি আরবের পক্ষে আর ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সম্ভাবনা ছিল না। তবে দ্বিতীয়ার্থের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ফেরান তোরেসের একটি গোল বাতিল না হলে স্পেনের জয়ের ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো। শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন।
