দক্ষিণ কোরিয়া ০ : ১ দক্ষিণ আফ্রিকা
নক আউট নিশ্চিত করতে স্রেফ ড্র করলেই চলত এশিয়ার ফুটবল পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়ার। ফেভারিট হিসেবেই ম্যাচ শুরু করেছিল তারা। তলানিতে থেকে গ্রুপের শেষ রাউন্ড শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকা উপহার দিল দারুণ চমক। ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে মন্তেরেই স্টেডিয়ামে ১-০ গোলের স্মরণীয় জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পৌঁছে গেল তারা। ৬৩তম মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়া গোলটি করেন থাপেলো মাসেকো।
ম্যাচের ৬৯ শতাংশ সময় বল নিজেদের কাছে রেখেও আসল কাজটি করতে পারল না দক্ষিণ কোরিয়া। চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে দারুণ জয়ে আসর শুরু করা এশিয়ার দলটি পরের দুই ম্যাচেই হেরে গেল একই ব্যবধানে। তাদের সব আশা অবশ্য শেষ হয়নি। তৃতীয় স্থানাধিকারী দলগুলোর একটি হিসেবে পরবর্তী পর্বে খেলার সুযোগ আছে তাদের।
মন্তেরেইতে বল নিজেদের কাছে রাখার লড়াইয়ে দক্ষিণ কোরিয়া যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও গোলে শট ও লক্ষ্যে রাখার ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকা ছিল দ্বিগুণ এগিয়ে। গোলে ১৪টি শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখে তারা। কোরিয়ানদের সাত শটের দুটি ছিল লক্ষ্যে।
ম্যাচের শুরুতে যদিও দক্ষিণ আফ্রিকাকে কাঁপিয়ে দেয় দক্ষিণ কোরিয়া। বল ধরে রেখে দাপটে শুরু করে তারা। দ্বিতীয় মিনিটেই কর্নার থেকে ফাঁকায় পেয়ে হেড করেন কিম মিন-জে। তবে অব্রে মদিবার পায়ে ব্লক হয়ে যায় তা। একটু পর বক্সের ভেতর থেকে লি গাং-ইনের জোরাল শট একটুর জন্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা আস্তে আস্তে খেলায় জোর বাড়াতে থাকে। মোসেকো এক দফায় বল নিয়ে দারুণভাবে বক্সে ঢুকে শট নিলেও তা ব্লকড হয় কোরিয় রক্ষণ দেয়ালে। একটু পর আর তাকে আটকানো যায়নি। বক্সের ভেতর বল পেয়ে সামনের ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক দিয়ে জোরাল গড়ানো শটে কোরিয়ান গোলকিপারকে পরাস্ত করেন তিনি। সেই গোল শোধ করার তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়া।
আগে তিন দফায় বিশ্বকাপ খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। স্বাগতিকও ছিল ২০১০ আসরে। কোনোবারই গ্রুপ পর্ব উতরাতে পারেনি তারা। এবার খুলে গেল ইতিহাসের দুয়ার।
