মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর ৯/১১ হামলার ভয়াবহ স্মৃতি উস্কে এবার চীনের রাজধানী বেজিংয়ে ঘটল এক চাঞ্চল্যকর বিমান দুর্ঘটনা। বেজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু গগনচুম্বী বহুতল ‘সিটিক টাওয়ার’ যা ‘চায়না জ়ুন’ নামেও পরিচিত, সেখানে সজোরে আছড়ে পড়ল একটি ছোট বিমান। এই দুর্ঘটনার জেরে গোটা এলাকা জুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি চীনের অন্যতম সফল লাইট এভিয়েশন এয়ারক্র্যাফট ‘সানওয়ার্ড এসএ ৬০এল অরোরা’। জানা গিয়েছে, পাইলট একাই বিমানটি ওড়াচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার মাত্র আধঘণ্টা আগে শিফোসি বিমানবন্দর থেকে তিনি উড়ান শুরু করেন। বিকেল ৫টা ৪০ মিনিট নাগাদ বিমানবন্দরে ফিরে অবতরণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হঠাৎই বিমানটি তার নির্ধারিত পথ থেকে সরে যায়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং থেকে জানা গিয়েছে, বেজিংয়ের ইস্ট ফিফথ রিং রোড এলাকায় পৌঁছনোর পরেই বিমানটির সিগন্যাল হারিয়ে যায় এবং যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, ১,৭০০ ফুট উঁচু এই ১০৯ তলা বিল্ডিংয়ে ধাক্কা খাওয়ার পর বিমানটির টুকরো টুকরো অংশ আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো নিচে আছড়ে পড়ছে। বিমানের ধাক্কায় বহুতলটির অন্তত দুটি জানলার কাঁচ পুরোপুরি ভেঙে যায় এবং বিল্ডিংয়ের গায়ে একটি বড় গর্ত তৈরি হয়।বিল্ডিংয়ের নিচে বিমানের একটি ডানা পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। এছাড়া গ্রাউন্ড ফ্লোরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ থেকে গলগল করে কালো ধোঁয়া বেরোতেও দেখা যায়।
দুর্ঘটনার পর পরই তড়িঘড়ি গোটা বিল্ডিং খালি করে দেওয়া হয়। তবে এই ঘটনায় ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছে বা কতজন আহত হয়েছেন, তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। চায়োং ডিস্ট্রিক্টের সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত এই ‘চায়না জুন’ বিল্ডিংটি সাংহাই টাওয়ার এবং পিং অ্যান ফিন্যান্স সেন্টারের পর চীনের তৃতীয় সর্বোচ্চ বহুতল। দুর্ঘটনার খবর পেতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং জরুরি উদ্ধারকারী দল। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, গোটা এলাকা কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। সিটিক টাওয়ার সংলগ্ন একাধিক রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। এমনকি সাধারণ পথচারীদের ওই বিল্ডিংয়ের ছবি তুলতেও কড়াভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
কী কারণে আচমকা বিমানটি পথ হারাল এবং এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না বা অন্য কোনো ঘটনা এতে জড়িত কিনা তা জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
সংবাদ সূত্র – কলকাতা নিউজ২৪.কম
