বন বিভাগ জানায়, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন বারৈয়ারঢালা জাতীয় উদ্যানের প্রায় ২ হাজার ৯৩৫ একর বনাঞ্চলজুড়ে রয়েছে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, রূপসী, সোনাইছড়ি, ভাওয়াছড়াসহ বেশ কটি ঝরনা। আকৃতি ও সৌন্দর্যের কারণে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া ও রূপসী ঝরনায় পর্যটকের ভিড় সবচেয়ে বেশি।
টানা বৃষ্টিতে দুর্ঘটনা এড়াতে চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডের ৯ ঝরনায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বারৈয়ারঢালা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফুল আলমের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জানতে চাইলে মিরসরাইয়ের ঝরনাগুলোর ইজারাদার মেসার্স ‘থ্রি বি’র স্বত্বাধিকারী ওহিদুল ইসলাম বলেন, বন বিভাগের নির্দেশনার পর আমরা মিরসরাইয়ে আমাদের ইজারাভুক্ত সব কটি ঝরনায় সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রেখেছি। আমাদের কর্মীরা সার্বক্ষণিক বিষয়টি তদারকি করছে।
ঝর্ণায় পর্যটক প্রবেশ বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে বড়তাকিয়া বিট কর্মকর্তা অরুন রায় বলেন, দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কের আওতায় সকল ঝর্ণায় পর্যটক প্রবেশে নিষেদ্ধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। তবে আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে এ নিষেদ্ধাজ্ঞার মেয়াদ কমানো বাড়ানো হতে পারে।
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ বারৈয়ারঢালা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ভারী বৃষ্টির এ সময়ে পাহাড়ি ঢলে ঝরনা এলাকার ঝিরিগুলোতে তীব্র স্রোত তৈরি হয়। এ সময় অনেক পর্যটক অতি উৎসাহী হয়ে অথবা না বুঝে বিপদে পড়েন। তাই আমরা ১০ জুলাই পর্যন্ত সব কটি ঝরনায় ভ্রমণ বন্ধ রাখার বিষয়ে ইজারাদারদের নির্দেশনা দিয়েছি।
এর আগে ভারী বৃষ্টির কারণে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র এবং রাঙামাটির সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বন বিভাগ জানায়, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন বারৈয়ারঢালা জাতীয় উদ্যানের প্রায় ২ হাজার ৯৩৫ একর বনাঞ্চলজুড়ে রয়েছে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, রূপসী, সোনাইছড়ি, ভাওয়াছড়াসহ বেশ কটি ঝরনা। আকৃতি ও সৌন্দর্যের কারণে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া ও রূপসী ঝরনায় পর্যটকের ভিড় সবচেয়ে বেশি।
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সীতাকুন্ডের ২ হাজার ৯৩৩ দশমিক ৬১ হেক্টর বন ভূমিকে ‘বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্ক’ ঘোষণা করা হয়। এ পার্কের আওতায় রয়েছে ১১টি ঝর্ণা। তবে ১১টি ঝর্ণার মধ্যে ৯টি ঝর্ণার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে নয় স্তর বিশিষ্ট খৈয়াছরা ঝর্ণা, নাপিত্তা ঝর্ণা, রুপসী ঝর্ণা, বাওয়াছরা ঝর্ণা, সহস্রধারা ঝর্ণা, সোনাইছরা ঝর্ণা অন্যতম। প্রত্যেক বছর হাজার হাজার পর্যটক এসব ঝর্ণায় ঘুরতে আসেন।
