চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুসরাত সুলতানা বলেছেন, পরিকল্পিত জনসংখ্যা আলোকিত বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম হাতিয়ার। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সাম্যের ভিত্তিতে পরিবার পরিকল্পনা সেবা আরও বেগবান করতে হবে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ জন্য পরিবার পরিকল্পনা সেবাসহ যাবতীয় সরকারী সেবাগুলো তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বত্র পৌঁছে দিতে হবে। রোববার ( ১২ জুলাই ) সকাল ১১টায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে নগরীর আগ্রাবাদস্থ চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল-‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্খা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’। আলোচনা সভার পূর্বে বেলুন-কপোত উড়িয়ে ও বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের শুভ উদ্বোধন করেন তিনি। এসময় তিনি আরও বলেন, দেশের কাঙ্খিত উন্নয়নে তরুণ প্রজন্মকে কাজে লাগাতে হবে, তাদের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। জনসংখ্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে পরিবার পরিকল্পনা সেবা আরও দৃশ্যমান করতে হবে। নারীর প্রতি সহনশীল আচরণের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ তরুণ। তাদেরকে প্রযুক্তিগতভাবে কর্মক্ষম করে গড়ে তুলতে পারলে সুস্বাস্থ্যের ব্ংালাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ গড়তে পারবো। আজকের তরুণেরা আগামী দিনের উজ্বল ভবিষ্যৎ। তরুণ প্রজন্মসহ সবাইকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে এদেশ কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে। বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে হলে জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে পরিণত করতে হবে। এজন্য দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয়কে কাজে লাগোতে হবে। সর্বোপরি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। ছেলে হোক আর মেয়ে হোক, দু’টি সন্তানের বেশী নয়, একটি হলে ভালো হয়।
পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক আবু সালেহ মোঃ ফোরকান উদ্দীনের সভাপতিত্বে, ডবলমুরিং থানা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুর-ই জান্নাত ও মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচএফফি) ডা. প্রিয়াঙ্কা চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বেগম সাহান ওয়াজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ মোঃ সেলিম, পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক এম.এম এরশাদ ও অসরকারী সংস্থা মমতা’র উপ-প্রধান নির্বাহী তৌহিদ আহমদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (সিসি) ডা. শামীমা হাসনাত ও সহকারী পরিচালক (পোর্ট ক্লিয়ারেন্স) মোঃ লোকমান হোসেন। সভার শুরুতে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে থিম সং ও ডকুমেন্টারী প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে পরিবার পরিকল্পনা সেবা, প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারী ও অন্যান্য সেবার বিশেষ অবদানের জন্য বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ১০ ক্যাটাগরিতে সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মোট ২০ জন কর্মী ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা স্মারক-ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করেন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়সহ বিভিন্ন অসরকারী সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বলেন, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বাড়াতে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নানাবিধ প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির ব্যবহারে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছেন। গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনায় সচেতনতা বাড়াতে নিরলসভাবে কাজ করার কারণে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস পেয়েছে। দেশের প্রত্যেকটি মানুষের হাতকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যেতে হবে। তাহলে আজকের বাংলাদেশ হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পিত আগামীর উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
বক্তারা আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে আলোকিত মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রত্যেক কাজে নারী-পুরুষের সমানভাবে অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরী। নিরাপদ প্রসবসেবা, প্রসব পরবর্তী সেবা সমূহ আরও গতিশীল করতে হবে। সাধারণ সেবা গ্রহীতাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতসহ প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারীর হার বৃদ্ধি করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে নিরাপদ সেবা দেয়ার জন্য কিভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারি সে ব্যাপারে পলিসি নিতে হবে। মানসম্মত পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিত করা গেলে সফলতা অবশ্যই আসবে।
