ভারত : বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের লাদাখ ও অরুণাচল সীমান্তে চীনের বিধ্বংসী জে-২০ যুদ্ধবিমান মোতায়েনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভারতের পূর্ব সীমান্তে সামরিক শক্তি বাড়াল পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক সীমানা এবং নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর মোট ২৫০টি অত্যাধুনিক এসএইচ-১৫ ট্রাক-মাউন্টেড সেলফ-প্রোপেলড হাউইৎজার কামান মোতায়েন করেছে পাক সরকার। উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত বিভিন্ন সেক্টরে ধাপে ধাপে এই আর্টিলারি সিস্টেম মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক অতীতে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো সাঁড়াশি অভিযানে বড় ধাক্কা খেয়েছে পাকিস্তান। অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ভারতীয় সেনার সামনে কার্যত নাস্তানাবুদ হতে হয়েছিল পাক সেনাকে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পাক সেনাঘাঁটিগুলিতেও ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল ভারতীয় বাহিনী। এর ফলে প্রমাদ গুনেছে পাকিস্তান। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চাইছে তারা। কৌশলগতভাবে দিল্লিকে চাপে রাখতেই চীনের তৈরি এই মারণাস্ত্র সীমান্তে মজুত করা হচ্ছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
পাকিস্তান যে এসএইচ-১৫ কামানগুলি সীমান্তে মোতায়েন করছে, সেগুলি মূলত চীনের তৈরি। ছয় চাকার সাঁজোয়া শানসি ট্রাকের উপর বসানো এই কামানগুলি অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন (সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৯০ কিমি বেগে ছুটতে সক্ষম)। ফলে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এগুলি দিয়ে আক্রমণ শানানো সম্ভব। এই হাউইৎজার কামানগুলির সাধারণ গোলাবারুদের পাল্লা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার। তবে বিশেষ রকেট-সহায়ক ভি-ল্যাপ প্রজেক্টাইল ব্যবহার করলে ৫৩ থেকে ৭২ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকেও নিমেষে ভস্মীভূত করতে পারে এগুলি। সবচেয়ে বড় কথা, প্রয়োজনের মুহূর্তে এই অত্যাধুনিক কামান থেকে প্রতি মিনিটে অনর্গল ছয় রাউন্ড পর্যন্ত গোলাবর্ষণ করা সম্ভব।
এদিকে ভারতের উত্তর ও পূর্ব সীমান্তে চীনের লাগাতার সামরিক প্রস্তুতি ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গত ৯ জুলাইয়ের উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) জিনজিয়াংয়ের হোটান বিমানঘাঁটিতে অন্তত ৮টি জে-২০ স্টিলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। অসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহৃত এই ঘাঁটিটি উত্তর লাদাখের দৌলত বেগ ওল্ডি থেকে মাত্র ২৪৫ কিমি এবং লেহ থেকে ৩৮৯ কিমি দূরে অবস্থিত অন্যদিকে, ২৫ জুনের উপগ্রহ চিত্রে তিব্বতের দামসুং বিমানঘাঁটিতে আরও ৪টি জে-২০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকার প্রমাণ মিলেছে। এই ঘাঁটিটি অরুণাচলের তাওয়াং থেকে মাত্র ৩৪৪ কিমি উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। ভারতের বিরুদ্ধে একসঙ্গে চীনের কোনও বিমানঘাঁটিতে এত সংখ্যক পঞ্চম প্রজন্মের জে-২০ যুদ্ধবিমান মোতায়েনের ঘটনা এই প্রথম।
একদিকে চীনের আকাশপথে আগ্রাসী অবস্থান এবং অন্যদিকে পাকিস্তানের মাটিতে ২৫০টি হাউইৎজার কামান মজুত, উভয়ে মিলে ভারতকে একই সঙ্গে দুই ফ্রন্টে কোণঠাসা করার একটি গভীর ও সুদূরপ্রসারী কৌশল বলেই মনে করছেন দক্ষিণ এশিয়ার সমর বিশেষজ্ঞরা।
