চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগামী দিনে আরও ইতিবাচক ও সুদৃঢ় হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, এমন কোনো সমস্যা নেই যা আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারি না।’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সোমবার ১০ আগস্ট সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে তিনি সচিবালয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সঙ্গেও প্রথমবারের মতো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদ্যমান বন্দি বিনিময় ও এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত সব চিহ্নিত পলাতক অপরাধীকে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি করার লক্ষ্যে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতীয় হাইকমিশনারকে অনুরোধ জানান। তাছাড়া শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ভারত থেকে এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী যতদ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে ফেরত প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়।হাইকমিশনার ভারতের পক্ষ থেকে আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান। সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ভারতীয় হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘প্রথম সাক্ষাতেই অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত বিনয়ী ও মাটির মানুষ। আলোচনায় আমার মনে হয়েছে, আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল।’ দু’দেশের ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি দুটি প্রতিবেশী দেশের অবস্থান কখনো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য বা ইস্যু থাকাটা স্বাভাবিক। ইস্যু না থাকলে তাকে গণতন্ত্র বলা যায় না। আমাদের ও বাংলাদেশের নানা বিষয় থাকতে পারে, তবে উভয় দেশের মানুষের মূল চাওয়া একটিই—সুন্দর ও সুদৃঢ় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক।’
ভবিষ্যতের কূটনৈতিক অগ্রগতির রূপরেখা তুলে ধরে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আরও জানান, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা ও জনগণের সঙ্গে জনগণের সংযোগ বাড়াতে ভারত সরকার অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। তিনি আরও বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও দেশের জনগণ বাংলাদেশের সঙ্গে এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর। সকল অমীমাংসিত বিষয় শিগগিরই কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
