ছবি : সংগৃহীত
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজের শহর ক্রিভিরিহে ভয়াবহ রুশ ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১২১ জন, যাঁদের মধ্যে ২২ জন শিশু। শুক্রবারের এই হামলাকে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রুশ ড্রোন হামলার লক্ষ্য ছিল শহরের একটি শপিং সেন্টার। জেলেনস্কির অভিযোগ, প্রথম হামলার পর উদ্ধারকারী ও জরুরি পরিষেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই ফের ড্রোন হামলা চালানো হয়। তিনি এটিকে সম্ভাব্য ‘ডাবল-ট্যাপ’ হামলা বলে দাবি করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, এই ধরনের হামলা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চেয়ে কম কিছু নয়। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকারী দল এখনও তল্লাশি চালাচ্ছে।
ক্রিভিরিহ রাশিয়ার হামলার শিকার হচ্ছে বারবার। ২০২৫ সালের এপ্রিলেও শহরটিতে ভয়াবহ হামলা হয়েছিল। সেই ঘটনায় ২০ জনের মৃত্যু হয়, যাঁদের মধ্যে ৯ জন ছিল শিশু। শুক্রবারের হামলার ঠিক এক দিন আগেই কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় বড়সড় রুশ হামলা চালানো হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা সেই হামলায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। অন্তত ১৬ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হামলার সময় কিয়েভের ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনগুলিতে প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে ২ হাজারের বেশি শিশু ছিল। আবাসিক ভবন, একটি স্কুল, শিশু হাসপাতাল এবং কিন্ডারগার্টেনও ওই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জেলেনস্কির দাবি, রাশিয়া বেশ কিছু সময় ধরে হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল এবং বেসামরিক পরিকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন একসঙ্গে ব্যবহার করেছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া মোট ১৩৫টি ড্রোন ছুড়েছিল। এর মধ্যে ১০৭টি ড্রোনকে গুলি করে নামানো বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। এদিকে খারকিভ অঞ্চলেও পৃথক রুশ ড্রোন হামলায় ৭৩ ও ৬৬ বছর বয়সি দুই মহিলা নিহত হয়েছেন। আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বারবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম অল্প কয়েকটি ব্যবস্থার মধ্যে আমেরিকার তৈরি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্যতম। অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর দেওয়ার জন্য পশ্চিমা দেশগুলির কাছে বারবার আবেদন জানিয়ে আসছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
