শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

রাজনৈতিক ইস্যু যেন দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে বাধাগ্রস্থ না করে : ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফাইল ফটো : বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী

 

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক ইস্যু থাকলেও তা যেন দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে বাধা না দেয়—এমন বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী মহোদয়। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বার্থকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। দীনেশ ত্রিবেদীর মতে, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা তার নিজস্ব গতিতে চলতে পারে, কিন্তু সাধারণ মানুষের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বার্থে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কাজ থেমে থাকা উচিত নয়। আজ সোমবার ২৪ আগস্ট সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক—দুটি দিকই রয়েছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক ইস্যু ও মতপার্থক্য থাকবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা মূলত জীবনমানের উন্নয়নকে ঘিরে। তিনি বলেন, মানুষ চাকরি চায়, ভালো শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা চায়, ভালো রাস্তা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চায়। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমেই এসব চাহিদা পূরণের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, ‘আসুন, আমরা ব্যবসায়িক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাই, রাজনীতি তার নিজের পথে চলবে।’

দুই দেশের সম্পর্ককে আরও টেকসই করতে পারস্পরিক নির্ভরশীলতার ওপর গুরুত্ব দেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তাঁর ভাষায়, ‘ইন্টারডিপেন্ডেন্সি’ বা পারস্পরিক নির্ভরতাই দীর্ঘমেয়াদে একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে।তিনি বলেন, উন্নয়নের প্রয়োজনে বাংলাদেশ যেমন ভারতের ওপর নির্ভর করবে, তেমনি ভারতও বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করবে। পারস্পরিক এই নির্ভরতা দুই দেশের মানুষকে আরও কাছাকাছি আনতে পারে এবং একটি পরিবারের মতো সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। তবে এই সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে সমতা— এ কথাও স্পষ্ট করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। এখানে কেউ বড় কিংবা ছোট নয়। উভয় দেশই সমান। সেই সমতার ভিত্তিতেই পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। দুই দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের তরুণদের মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব হলো তাদের জন্য সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা।

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মানুষ মেধাবী। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অনেক আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। তাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করা দুই দেশেরই দায়িত্ব। শান্তি ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সম্পর্ক তুলে ধরে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, সাধারণ মানুষের চাওয়া খুব বেশি নয়। তারা মূলত শান্তিতে থাকতে চায়। আর শান্তি থাকলেই সমৃদ্ধির পথ তৈরি হয়। বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশেই তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ফলে নীতিনির্ধারণের সময় তাদের ভবিষ্যৎকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সম্পর্কিত খবর

দল-মত, বর্ণ ও গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে উঠে সর্বস্তরের মানুষের জন্য নিরপেক্ষভাবে কাজ করার শপথ নিয়েছি : রাষ্ট্রপতি জনাব ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ছবি : সংগৃহীত   গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরানসহ (রহ.) অসংখ্য ওলি-আউলিয়ার স্মৃতিধন্য সিলেটে...

চট্টগ্রাম বিপনি বিতানে কাপড়ের গুদামে আগুন

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেটে একটি কাপড়ের গুদামে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের ত্রুটিতেঅগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর)...

হাসপাতালের লাইন দীর্ঘ না করতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে: ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রাম : হাসপাতালে রোগীর চাপ কমাতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করে রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি...

শহীদ ২ সেনাসদস্যের পরিবারের হাতে সহায়তার চেক হস্তান্তর করলেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান

ছবি : সংগৃহীত   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় গোলা বিস্ফোরণের দুর্ঘটনায় নিহত দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যরা।...

চট্টগ্রামে হারানো অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এসব অস্ত্র সমাজের সবার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ : র‍্যাব-৭

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে হারিয়ে যাওয়া সরকারি অস্ত্র উদ্ধারে সবার সহযোগিতা চেয়েছে র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, হারানো অস্ত্র উদ্ধার না...

চট্টগ্রামে বকেয়া পরিশোধের দাবিতে গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের ‘পথে পথে প্রতিবাদ’

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের পাঁচ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া পরিশোধের দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ কর্মসূচি ‘পথে পথে প্রতিবাদ’। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত