ছবি: ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস প্রধান শ্রী মোহন ভাগবত
নিউ ইয়র্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: বর্তমান বিশ্বে সংঘাত, বিভাজন এবং মতবিরোধ দূর করতে মানুষের মধ্যে ঐক্যের চেতনা তৈরি করা প্রয়োজন। আর সেই ঐক্যের অন্যতম পথ হতে পারে কৃষ্ণচেতনা। নিউ ইয়র্কে ইসকন মন্দিরে গিয়ে এমনই বার্তা দিলেন ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস প্রধান শ্রী মোহন ভাগবত। শুক্রবার ২৮ আগষ্ট যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় নিউ ইয়র্কের ইসকন মন্দিরে যান ভাগবত। সেখানে তিনি গৃহহীন মানুষদের মধ্যে খাবার বিতরণের একটি উদ্যোগেও অংশ নেন। পরে মন্দিরে উপস্থিত ভক্তদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন তিনি।
মোহন ভাগবত বলেন, বর্তমান বিশ্বে নানা ধরনের সংঘাত ও বিভাজন রয়েছে। মানুষের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও একটি চেতনা সবাইকে একত্রিত করতে পারে। তাঁর কথায়, সেই ঐক্যের চেতনা হল ‘কৃষ্ণচেতনা’। তিনি বলেন, পৃথিবীতে বৈচিত্র্য এবং দ্বৈততা থাকলেও মানুষের মধ্যে একতার উপলব্ধি তৈরি করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, মানুষের হৃদয়ে যদি এই উপলব্ধি পৌঁছে যায় যে সবকিছুই কৃষ্ণের অংশ, তাহলে পৃথিবী আরও সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আরএসএস প্রধান বলেন, মানুষ যদি উপলব্ধি করতে পারে যে সবকিছুর মধ্যে একই চেতনা রয়েছে, তাহলে বর্তমান বস্তুবাদী পৃথিবীর চেহারা বদলাতে পারে। তিনি বলেন, এই উপলব্ধি যদি মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে যায়, তাহলে পৃথিবী আরও ভালো জায়গায় পরিণত হবে এবং প্রতিটি মানুষের জন্য স্বর্গীয় আবাসের মতো হয়ে উঠতে পারে।
মোহন ভাগবতের নিউ ইয়র্ক সফর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ২৯ আগস্টের ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’ ঘিরে। ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভারতীয় সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে তাঁর। আরএসএসের শতবর্ষ উদযাপনের কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আমেরিকা, কানাডা এবং ব্রিটেন, এই তিন দেশ নিয়ে ভাগবতের চলতি সফর।
তবে ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠান নিয়ে নিউ ইয়র্কে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, তিনি আরএসএসের এই অনুষ্ঠানকে সমর্থন করেন না। তবে অনুষ্ঠানটি বেসরকারিভাবে আয়োজিত হওয়ায় সেটি বাতিল করার ক্ষেত্রে শহর প্রশাসনের আইনগত ক্ষমতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা থাকা আচার্য মহামণ্ডলেশ্বর শ্রী স্বামী অবধেশানন্দ গিরি জি মহারাজ বলেছেন, অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করা এবং নিজেদের মত প্রকাশ করার অধিকার প্রতিবাদকারীদের রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বভ্রাতৃত্ব এবং সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরা হবে। ভারতীয় সংস্কৃতির ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’, অর্থাৎ গোটা বিশ্বই একটি পরিবার, এই ভাবনাকেই সেখানে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আরএসএসের অখিল ভারতীয় প্রচার প্রমুখ সুনীল আম্বেকর ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’-কে একটি আন্তঃধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে। এদিকে হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশনও অনুষ্ঠানের আগে একটি নিরাপত্তা পরামর্শ জারি করেছে। অংশগ্রহণকারীদের সতর্ক থাকতে, আশপাশের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে এবং অন্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় সংযত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সূত্র – কলকাতা নিউজ২৪.কম
