চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম মহানগরে গণপরিবহন গুলোতে বাড়তি ভাড়া আদায় করার লক্ষ্যে গ্যাস সংকটের অজুহাতে দেখিয়ে যাত্রীদের পকেট কাটছে পরিবহন চালকরা। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নগরীর পথে পথে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে চালক-হেলপারের নিত্য ঝগড়া-বিবাদ লাগছে। গ্যাস সংকট কিছুটা কমলেও ভাড়া আগের মতো বাড়তিই নেওয়া হচ্ছে। নগরের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী সিএনজিচালিত বাস, মিনিবাস, টেম্পোসহ নানা যানবাহনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ। যাত্রীদের মতে, চট্টগ্রামের গণপরিবহনগুলোতে যাতায়াতে যেখানে ওঠানামায় নূন্যতম ভাড়া ছিল ৫ টাকা, সেখানে ১০ টাকা করে আদায় করা হতো অনেক আগে থেকেই। সেই স্থলে এখন ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি বাড়া আদায় করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট দূরত্বের পর আদায় করা হচ্ছে আরও অতিরিক্ত ভাড়া।
মহানগরের গ্যাসচালিত বাস, মিনিবাস ও সবুজ টেম্পোর ভাড়া হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কয়েক দিন আগেও এসব যানবাহনে যাতায়াতের ন্যূনতম ভাড়া ছিল ৫ টাকা। বর্তমানে অনেক গাড়িতে যাত্রীদের কাছ থেকে ১০ টাকা করে এবং নির্দিষ্ট দূরত্বের পর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। চালকদের পক্ষ থেকে এ ভাড়া বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে গ্যাস সংকটকে। সরেজমিনে দেখা গেছে, চকবাজার থেকে আগ্রাবাদমূখী টেম্পোগুলোও ভাড়া বাড়িয়েছে চলতি মাসের প্রথমদিকে, গ্যাস সংকটের সময়। এখনো তা বহাল রেখেছে। এই রুটের যাত্রী আফিয়া আখতার জানান, গ্যাস সংকটের দোহাই দিয়ে প্রতিনিয়ত যাত্রী হয়রানি করা হচ্ছে। কৃত্রিমভাবে গাড়ির সংকট তৈরি করে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
ফতেয়াবাদ থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত চলাচলকারী ৩ নম্বর রুটের যাত্রী রোকেয়া বেগম অভিযোগ করেন, আগের নির্ধারিত ভাড়া দিতে চাইলে চালক ও সহকারীদের কাছ থেকে নানা কথা শুনতে হয়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে।
জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে চট্টগ্রামে গ্যাসের সংকট দেখা দেয়। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যায়নি তখন। আগস্টের শুরুর দিকে এসেও গ্যাস সংকট অব্যাহত থাকে। তখন গণপরিবহন তাদের ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। বাসে ওঠা-নামা আগে যেখানে ৫ টাকা ছিল তা ১০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে গ্যাসচালিত টেম্পোগুলোও ৫ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা আদায় করতে থাকে। এভাবে দূরত্ব অনুযায়ী ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়তি ভাড়া আদায় করে যাচ্ছেন তারা। এখনো তা সেভাবেই চলছে। এ ব্যাপারে যাত্রীরা ভাড়া নির্ধারণকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তৌহিদ হোসেন চৌধুরী নামের এক যাত্রী জানান, যখন গ্যাসের সংকট বেশি ছিল তখন বাড়তি ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি মানুষ মেনে নিয়েছে। কিন্তু এখন সংকট আগের মতো না থাকলেও ভাড়া কেন কমছে না? এর কারণ কী? বাড়তি ভাড়া নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা লেগেই থাকে প্রতিদিন। ঝগড়া-বিবাদ এমনকি যাত্রীদের নাজেহালও হতে হয় অনেকক্ষেত্রে। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে চলাচল করা লোকাল বাস ও টেম্পোতে এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। যাত্রীদের দাবি, গ্যাস সংকটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কৃত্রিম পরিবহন সংকট তৈরি করা হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়েই গন্তব্যে যেতে হচ্ছে তাদের।
নগরীর লোকাল পরিবহনে, বিশেষ করে টেম্পোগুলোতে সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। অনেক ক্ষেত্রে একটি রুটকে দুই থেকে তিন ভাগ করে গাড়ি চালানো হয়। এতে যাত্রীদের একই পথে একাধিকবার গাড়ি পরিবর্তন করতে হয় এবং বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়। খোরশেদ আলম নামে এক যাত্রী বলেন, আমরা প্রতিদিন যাতায়াত করি। আমাদের তো বেতন বাড়েনি। পরিবার নিয়ে চলতেই কষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে প্রতিদিন গাড়িভাড়া বাড়তি দিতে হচ্ছে। শুধু বাস, টেম্পো নয়, সিএনজিচালিত অটোরিকশাও বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে। বিভিন্ন গন্তব্যে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। কিছু কিছু জ্বালানি তেলে চলে এমন গাড়িও এই সুযোগে ভাড়া বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ। এসব বাড়তি ভাড়ার বিষয়টি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষও (বিআরটিএ) অবগত। তারা বিভিন্ন সময় বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে চলেছে। জানতে চাইলে বিআরটিএয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা মুস্তাফা বলেন, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) থেকে আমরা বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে অভিযানে নেমেছি। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সিএনজিচালিত গণপরিবহনে জরিমানা করা হচ্ছে নিয়মিত। পাশাপাশি কিছু জ্বালানি তেলের গাড়িও ভাড়া বাড়িয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে গণপরিবহনগুলোকে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। এটা চলমান প্রক্রিয়া।
