চট্টগ্রাম : প্রতিদিন ৯ জন করে মানুষ মারা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, গত ছয় মাসে ১৭০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। আমরা রামিসার হত্যাকাণ্ডের কথা জানি। তার বিচার হয়েছে কারণ সারা বাংলাদেশ তার ব্যাপারে সরব হয়েছিল। কত রামিসা নীরবে-নিভৃতে আমাদের থেকে বিদায় নিয়ে চলে গিয়েছে তাদের কোনো হিসাব এই বাংলাদেশের মানুষ জানে না। তাদের নিয়ে কেউ কথা বলে না। কোনো মিডিয়ায় তাদের নিউজ আসে না। এ সময় কুমিল্লায় শিশু অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের বিবেককে নাড়া দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন। এসময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতির চিত্রও তুলে ধরলেন তিনি। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ ছাত্রশিবির আয়োজিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গত শনিবারের ঘটনা সারা বাংলাদেশের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এর সাথে জড়িত তারই এলাকার কিছু বন্ধু কিংবা তার চেয়ে বয়সে বড় কিছু মানুষ। একটা আইফোনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার কাছ থেকে আইফোনটা নেওয়ার জন্য তাকে আঘাত করা হয়েছে। আঘাতটা সিভিয়ার পর্যায়ে হয়েছে যার ফলে তার মৃত্যু হয়েছে। অপ্রতিম অকালে বিদায় নিয়েছে। জানি না তার বাবা-মা কীভাবে বেঁচে থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বললেন, অপ্রতীমের মতো ঘটনা কী একটা-দুইটা বাংলাদেশে! গত ছয় মাসে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ। তার মধ্যে এখনো দুই হাজার শিশুর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এটা সরকারি সংস্থার হিসাব। শুধুমাত্র যেগুলো পত্রপত্রিকায় আসছে তার হিসাব। যেগুলো আসছে না সেগুলোর কথা তো আমরা কেউ জানতেও পারছি না। আসলে এমন ঘটনা অনেক অনেক বেশি। যার সন্তান হারায়, যার ভাই হারায় সে বোঝে শুধু হারানোর বেদনা।
অনিরাপদ সমাজব্যবস্থা মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বললেন, আমাদের সমাজে কিছু সমস্যা সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বড় সমস্যা হল মাদক, কিশোর গ্যাং। তরুণ সমাজের অন্তত ৪০ লাখ সরকারি হিসেব অনুযায়ী মাদকাসক্ত। তারাই কিশোর গ্যাংয়ের মতো ছোট ছোট টিম হয়ে সারভাইব করার জন্য নিজেরা নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার চর্চা করছে। একে অপরকে মেরে ফেলছে।
সরকারের উদ্দেশ্যে শিবির সভাপতি বলেন, জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলে কী অবস্থা হয় জুলাইয়ে তা দেখিয়ে দিয়েছে। প্রতারণা করে ক্ষমতায় এসেছেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেননি। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক সংস্কারগুলো করছেন না। গণভোটের আলোকে রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারগুলো আপনারা করছেন না। কেন করছেন না তার কোনো জবাবও আপনারা দেন না। শুধু বলেন অক্ষরে-অক্ষরে পালন করবেন। কালক্ষেপণ করে প্রতিটা দপ্তর, উপদপ্তরে নিজেদের লোক বসিয়ে রাখছেন। তরুণ প্রজন্ম এগুলো বোঝে না এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। মনে রাখবেন, জনগণ যেমন ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসাতে পারে, তেমনি আবার টেনে ক্ষমতা থেকে নামাতেও পারে।
চট্টগ্রাম মহানগর (দক্ষিণ) ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি রাকিবুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ বরকত আলী, নগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম, শিবিরের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক শামিম হোসেন।
