শনিবার, মার্চ ২১, ২০২৬

আজ বীর বাঙালির ৫৪তম বিজয় দিবস

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুইটি স্বাধীন রাষ্ট্র জন্মগ্রহণ করে। বর্তমান সময়ের বাংলাদেশ তখন পাকিস্তানের ভাগে যায় এবং পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিতি লাভ করে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুরু থেকে পূর্ব পাকিস্তান তথা বাঙালি জাতির ওপর শুরু হয় বৈষম্য, শোষণ, অত্যাচার –  নির্যাতন। অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে ঠকানো হতে থাকে পূর্ব পাকিস্তানকে। পশ্চিম পাকিস্তানের এই শোষণ, বঞ্চনা আর অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান সোচ্চার হতে থাকে এবং ধাপে ধাপে চলমান সকল অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত হতে থাকে। বাঙালির এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে নেতৃত্বে আসেন শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে এই আন্দোলন বেগবান হয়ে একসময় তা স্বাধীনতার আন্দোলনে রুপান্তরিত হয়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চ লাইট নামে বাঙালিদের হত্যা যজ্ঞে মেতে উঠে। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সর্বস্তরের বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। অমিত শক্তিধর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
মহান মুক্তিযুদ্ধের পরিচালনায় ছিলেন মুজিবনগর সরকার ও সম্মুখ সমরে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন সেনা প্রধান জেনারেল এম এ জি ওসমানী এবং ১১ জন সেক্টর কমান্ডার। যার মধ্যে ১ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের মধ্যে দিয়ে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ পূর্ণ মাত্রায় শুরু হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে অবস্থান নেয় প্রতিবেশী দেশ ভারত। সরাসরি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ এবং কোটি বাঙালিকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। ওই সময় পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সরাসরি সমর্থন দিয়ে  বাংলাদেশের স্বাধীনতা ত্বরান্বিত করে। বিশ্ব জনমতও ব্যাপকভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে।দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালির সাহসিকতার কাছে পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া যৌথবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামে একটি নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। তখন থেকেই ১৬ ডিসেম্বর বীর বাঙালির বিজয় দিবস হিসেবে প্রতি বছর পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে বিজয় দিবস উদযাপন করেন।

সম্পর্কিত খবর

ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোকে কঠোর হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ না করায় ন্যাটোর সদস্য ও দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলোকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ...

সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ

একযোগে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এছাড়া বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। জ সোমবার ১৬ মার্চ শিক্ষা...

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মদিন আজ

আজ ১৭ মার্চ বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মহান স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ১০৬ তম জন্মবার্ষিকী। ১৯২০ সালের...

সৌদি আরবে আগামী শুক্রবার পবিত্র ঈদ পালিত হবে

সৌদি আরবে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই দেশটিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর আগামী শুক্রবার ২০ মার্চ উদ্‌যাপন করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। খালিজ টাইমসের...

ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালো ইসরায়েল

বিশ্বের সকল মুসলিমদের পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছে ইসরায়েল। শুক্রবার ২০ মার্চ ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ শুভেচ্ছা জানায়। ইসরায়েলে এবং...

আফগানিস্তানের হাসপাতালে পাকিস্তানের ভয়াবহ বোমা হামলা : নিহত অন্তত ৪০০

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। তালেবান সরকারের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এই হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত