বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬

আজ বীর বাঙালির ৫৪তম বিজয় দিবস

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুইটি স্বাধীন রাষ্ট্র জন্মগ্রহণ করে। বর্তমান সময়ের বাংলাদেশ তখন পাকিস্তানের ভাগে যায় এবং পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিতি লাভ করে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুরু থেকে পূর্ব পাকিস্তান তথা বাঙালি জাতির ওপর শুরু হয় বৈষম্য, শোষণ, অত্যাচার –  নির্যাতন। অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে ঠকানো হতে থাকে পূর্ব পাকিস্তানকে। পশ্চিম পাকিস্তানের এই শোষণ, বঞ্চনা আর অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান সোচ্চার হতে থাকে এবং ধাপে ধাপে চলমান সকল অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত হতে থাকে। বাঙালির এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে নেতৃত্বে আসেন শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে এই আন্দোলন বেগবান হয়ে একসময় তা স্বাধীনতার আন্দোলনে রুপান্তরিত হয়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চ লাইট নামে বাঙালিদের হত্যা যজ্ঞে মেতে উঠে। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সর্বস্তরের বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। অমিত শক্তিধর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
মহান মুক্তিযুদ্ধের পরিচালনায় ছিলেন মুজিবনগর সরকার ও সম্মুখ সমরে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন সেনা প্রধান জেনারেল এম এ জি ওসমানী এবং ১১ জন সেক্টর কমান্ডার। যার মধ্যে ১ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের মধ্যে দিয়ে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ পূর্ণ মাত্রায় শুরু হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে অবস্থান নেয় প্রতিবেশী দেশ ভারত। সরাসরি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ এবং কোটি বাঙালিকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। ওই সময় পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সরাসরি সমর্থন দিয়ে  বাংলাদেশের স্বাধীনতা ত্বরান্বিত করে। বিশ্ব জনমতও ব্যাপকভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে।দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালির সাহসিকতার কাছে পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া যৌথবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামে একটি নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। তখন থেকেই ১৬ ডিসেম্বর বীর বাঙালির বিজয় দিবস হিসেবে প্রতি বছর পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে বিজয় দিবস উদযাপন করেন।

সম্পর্কিত খবর

ফটিকছড়িতে ডুবন্ত শিশুদের বাঁচাতে গিয়ে খামার মালিক ও একটি শিশুর সলিল সমাধি

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। একদিকে দুই অবুঝ শিশুকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনার আনন্দ, অন্যদিকে চোখের পলকে তলিয়ে যাওয়া...

শহীদ জিয়াউর রহমানের গুণাবলির সঙ্গে মানসিক সংযোগ স্থাপন করতে হবে : সাঈদ আল নোমান এমপি

চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন সততা, সাহসিকতা ও দূরদর্শিতায় অনন্য উচ্চতায়। তিনি সর্বোচ্চ সততা ও দেশপ্রেম...

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় ইমরান হোসেন (২৮) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।শনিবার (৩০ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার পৌরসভার ৩ নম্বর...

শুদ্ধ সংগীতের সুরে মুখর সীতাকুণ্ড, অনুষ্ঠিত হলো সুরনন্দনের ১ম বার্ষিক সঙ্গীত সম্মিলন

চট্টগ্রাম : সীতাকুণ্ডে শুদ্ধ সংগীতচর্চার এক অনন্য ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সুরনন্দনের ১ম বার্ষিক শাস্ত্রীয় ও উপ-শাস্ত্রীয় সঙ্গীত সম্মিলন। গত ২...

আজ “বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস” : মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বাণী

তামাক ও নিকোটিনের মরণঘাতী প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ দেশের আগামী প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব...

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানানোয় জবাবে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত