শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬

আজ বীর বাঙালির ৫৪তম বিজয় দিবস

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুইটি স্বাধীন রাষ্ট্র জন্মগ্রহণ করে। বর্তমান সময়ের বাংলাদেশ তখন পাকিস্তানের ভাগে যায় এবং পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিতি লাভ করে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুরু থেকে পূর্ব পাকিস্তান তথা বাঙালি জাতির ওপর শুরু হয় বৈষম্য, শোষণ, অত্যাচার –  নির্যাতন। অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে ঠকানো হতে থাকে পূর্ব পাকিস্তানকে। পশ্চিম পাকিস্তানের এই শোষণ, বঞ্চনা আর অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান সোচ্চার হতে থাকে এবং ধাপে ধাপে চলমান সকল অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত হতে থাকে। বাঙালির এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে নেতৃত্বে আসেন শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে এই আন্দোলন বেগবান হয়ে একসময় তা স্বাধীনতার আন্দোলনে রুপান্তরিত হয়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চ লাইট নামে বাঙালিদের হত্যা যজ্ঞে মেতে উঠে। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সর্বস্তরের বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। অমিত শক্তিধর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
মহান মুক্তিযুদ্ধের পরিচালনায় ছিলেন মুজিবনগর সরকার ও সম্মুখ সমরে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন সেনা প্রধান জেনারেল এম এ জি ওসমানী এবং ১১ জন সেক্টর কমান্ডার। যার মধ্যে ১ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের মধ্যে দিয়ে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ পূর্ণ মাত্রায় শুরু হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে অবস্থান নেয় প্রতিবেশী দেশ ভারত। সরাসরি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ এবং কোটি বাঙালিকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। ওই সময় পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সরাসরি সমর্থন দিয়ে  বাংলাদেশের স্বাধীনতা ত্বরান্বিত করে। বিশ্ব জনমতও ব্যাপকভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে।দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালির সাহসিকতার কাছে পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া যৌথবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামে একটি নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। তখন থেকেই ১৬ ডিসেম্বর বীর বাঙালির বিজয় দিবস হিসেবে প্রতি বছর পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে বিজয় দিবস উদযাপন করেন।

সম্পর্কিত খবর

নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে অনুমোদিত নকশা ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা পর্যালোচনা করে নগরীর যানজট নিরসনে বেসরকারি হাসপাতাল গুলোর পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করণে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম...

চট্টগ্রামে কাস্টমস সার্ভারে অনুপ্রবেশ করে বিদেশি মদ ও সিগারেট খালাসের চেষ্টায় গ্রেপ্তার ১ জন

চট্টগ্রাম : সরকারের অন্তত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টায় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সার্ভারে অবৈধ অনুপ্রবেশ, কাস্টমস নথি জালিয়াতি এবং শুল্ক ফাঁকি...

চট্টগ্রামে ডিডিএন অফিসে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় মূল হোতা মাইকেলসহ ৮ জন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানাধীন বাকলিয়া এক্সেস রোডে ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত মাইকেলসহ...

ভারতের ককরোচ আন্দোলন কোন পথে?

ভারতের ককরোচ পার্টির আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করতে গিয়ে ভারতীয় কংগ্রেসের অপরিপক্ক নেতা রাহুল গান্ধী মূলত আন্দোলনটিরই বারোটা বাজিয়ে ছাড়লেন। তিনি শুধুমাত্র নিজের ব্যক্তিগত লাভের...

আমাদের লক্ষ্য একটি স্মার্ট, পরিচ্ছন্ন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক চট্টগ্রাম গড়ে তোলা : চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে আজকের দিনটি একটি গৌরবময় ও যুগান্তকারী দিন। আমরা এমন এক প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে বাস করছি, যেখানে নাগরিক সেবা হাতের...

চট্টগ্রামে বাঁশখালীতে ‘শুকতারা’ মাদকাসক্তি পূর্নবাসন কেন্দ্রের ত্রান বিতরন

চট্টগ্রাম : আর্ত মানবতার প্রত্যয় নিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালি উপজেলার বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে 'শুকতারা' মাদকাসক্তি পূর্নবাসন কেন্দ্র। মানবিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত