শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

আজ বীর বাঙালির ৫৪তম বিজয় দিবস

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুইটি স্বাধীন রাষ্ট্র জন্মগ্রহণ করে। বর্তমান সময়ের বাংলাদেশ তখন পাকিস্তানের ভাগে যায় এবং পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিতি লাভ করে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুরু থেকে পূর্ব পাকিস্তান তথা বাঙালি জাতির ওপর শুরু হয় বৈষম্য, শোষণ, অত্যাচার –  নির্যাতন। অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে ঠকানো হতে থাকে পূর্ব পাকিস্তানকে। পশ্চিম পাকিস্তানের এই শোষণ, বঞ্চনা আর অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান সোচ্চার হতে থাকে এবং ধাপে ধাপে চলমান সকল অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত হতে থাকে। বাঙালির এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে নেতৃত্বে আসেন শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে এই আন্দোলন বেগবান হয়ে একসময় তা স্বাধীনতার আন্দোলনে রুপান্তরিত হয়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চ লাইট নামে বাঙালিদের হত্যা যজ্ঞে মেতে উঠে। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সর্বস্তরের বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। অমিত শক্তিধর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
মহান মুক্তিযুদ্ধের পরিচালনায় ছিলেন মুজিবনগর সরকার ও সম্মুখ সমরে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন সেনা প্রধান জেনারেল এম এ জি ওসমানী এবং ১১ জন সেক্টর কমান্ডার। যার মধ্যে ১ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের মধ্যে দিয়ে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ পূর্ণ মাত্রায় শুরু হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে অবস্থান নেয় প্রতিবেশী দেশ ভারত। সরাসরি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ এবং কোটি বাঙালিকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। ওই সময় পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সরাসরি সমর্থন দিয়ে  বাংলাদেশের স্বাধীনতা ত্বরান্বিত করে। বিশ্ব জনমতও ব্যাপকভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে।দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালির সাহসিকতার কাছে পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া যৌথবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামে একটি নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। তখন থেকেই ১৬ ডিসেম্বর বীর বাঙালির বিজয় দিবস হিসেবে প্রতি বছর পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে বিজয় দিবস উদযাপন করেন।

সম্পর্কিত খবর

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সাথে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাৎ

ছবি : সংগৃহীত   ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর ও আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা যাতে দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করতে...

মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত চট্টগ্রাম জেলা নাজির আরিফ হোসেন

চট্টগ্রাম : মাদার তেরেসা পিস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ পদকে ভূষিত হয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা (জেলা নাজির) আরিফ হোসেন। মাদার তেরেসার ১১৬তম জন্মবার্ষিকী...

উত্তমকুমার বাংলা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য এক অধ্যায়

চট্টগ্রাম : উত্তমকুমার বাংলা সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। দশকের পর দশক, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁর অটল অবস্থান সমস্ত বাঙালির অন্তর জুড়ে। মৃত্যুর প্রায়...

বিশ্বনেতাদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ফাইল ছবি :- প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান   টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বিশ্বনেতাদের পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও যৌথ দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন...

অন্যায় যতবার ফিরে আসার চেষ্টা করবে, জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ ততবার জেগে উঠবে: সাঈদ আল নোমান এমপি

দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত ও আওয়ামী সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ অবস্থান জানিয়ে চট্টগ্রাম ১০ সংসদীয় আসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিএনপি...

দল-মত, বর্ণ ও গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে উঠে সর্বস্তরের মানুষের জন্য নিরপেক্ষভাবে কাজ করার শপথ নিয়েছি : রাষ্ট্রপতি জনাব ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ছবি : সংগৃহীত   গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরানসহ (রহ.) অসংখ্য ওলি-আউলিয়ার স্মৃতিধন্য সিলেটে...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত