বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের আমলে চট্টগ্রামে যেসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর পর সেসব এখন আসছে মানুষের আলোচনায়। শিক্ষা, যোগাযোগ অবকাঠামো, ব্যবসা-বাণিজ্য- চট্টগ্রামে প্রায় সবখানেই ছড়িয়ে আছে নানা কীর্তি। নব্বই পরবর্তী সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রায় যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সূচনা খালেদা জিয়া বা বিএনপির হাত ধরে শুরু হয়েছিল, কালক্রমে সেগুলোই আরও যুগোপযোগী হিসেবে সম্প্রসারণ হয়েছে, এমনটাই মত বিএনপির পাট শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং–হালিশহর–পাহাড়তলী) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আল নোমানের। তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশকে বিএনপি সরকার গঠনের পর চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার ধারণা বাস্তব রূপ পায়।
সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমানের সন্তান ও চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সাঈদ আল নোমান বলেন, ‘আধুনিক চট্টলা কিংবা উন্নত চট্টগ্রাম গড়ার সোপানটা কিন্তু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াই রচনা করেছিলেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করার পর তৎকালীন মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের প্রস্তাব দিয়েছিলেন চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করার। দেশনেত্রী পরবর্তীতে বাণিজ্যিক রাজধানীর ঘোষণাই শুধু দেননি, সেটি মন্ত্রীসভায়ও অনুমোদন করেছেন। একইভাবে আবদুল্লাহ আল নোমানের প্রস্তাব গ্রহণ করে তিনি ভেটেরিনারি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরের মেয়াদে ভেরেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করেন। বেগম খালেদা জিয়া তৃতীয় কর্নফুলী সেতু নির্মাণের মাধ্যমে দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানকে সারাদেশের সঙ্গে যুক্ত করেন।
উল্লেখ্য যে, প্রাণী চিকিৎসাবিদ্যায় গুরুত্ব দিয়ে বিএনপির ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সালের শাসনামলে দেশে দুটি ভেটেরিনারি কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়, এর একটি চট্টগ্রামে ও আরেকটি সিলেটে। সেই সরকারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছিলেন প্রয়াত বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান। ১৯৯৫ সালের ২৮ নভেম্বর সেসময়কার প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়া চট্টগ্রামে আসেন এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে সেই কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার আন্দোলন শুরু করেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সাইন্সেস ইউনিভার্সিটি’। ২০০৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এটি উদ্বোধন করেন এবং ৭ আগস্ট এটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে দেশে এটিই একমাত্র ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে সাঈদ আল নোমান বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে একটি আলাপ তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ স্মৃতি হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, ‘তিনি আমাকে বলেছিলেন—বাঁচতে হবে কর্মে, গল্পে নয়। তুমি যে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছ, সেটার মাধ্যমেই তুমি বেঁচে থাকবে, বাকিসব মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে নিঃশেষ হয়ে যাবে।’
শোকবার্তায় সাঈদ আল নোমান বলেন, বাবার মৃত্যুর কিছুদিন আগে বাবার সঙ্গে দেশনেত্রীর দোয়া নিতে গিয়ে যে মমতা, উপদেশ ও নির্দেশনা পেয়েছিলেন, তা তাঁর জীবনের পাথেয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, চরম অসুস্থতার মাঝেও বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের মানুষ ও জনগণের ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যাকুল হতে দেখেছেন তিনি।
সাঈদ আল নোমানের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও ন্যায়ের প্রশ্নে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন, দৃঢ়চেতা ও মানবিক এক নেত্রী। একজন গৃহবধূ থেকে রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের মানুষের হৃদয়ে দেশনেত্রী হিসেবে স্থান করে নিয়েছিলেন।
শোকবার্তার শেষে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণ দেশ ও জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি প্রয়াত নেত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
# কমল দাশ
নির্বাহী সম্পাদক
চট্টগ্রাম মেইল
