
ছবিতে শেখেরটেক কালী মন্দির
শেখেরটেক কালী মন্দির সুন্দরবনের গভীরে অবস্থিত একটি ৪০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা, যা খুলনা রেঞ্জের কালীর খাল ও শিবসা নদীর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এবং মোগল আমলের স্থাপত্যের নিদর্শন বহন করে, যা বর্তমানে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং এটি এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির সাক্ষী।
সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের কালাবগি ফরেস্ট স্টেশনের কাছে, শিবসা নদীর পূর্ব পাড়ে কালীর খালের কাছে অবস্থিত। এটি মূলত একটি কালী মন্দির, যা ৪০০ বছরের পুরোনো এবং মধ্যযুগীয় স্থাপনার ধ্বংসাবশেষের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। ধারণা করা হয়, এটি ১৬শ শতাব্দীতে যশোর ও বাংলার বারো ভুঁইয়াদের অন্যতম জমিদার রাজা প্রতাপাদিত্য নির্মাণ করেন। হাতে তৈরি ইট, চুন এবং নদীর বালি ব্যবহার করে এটি নির্মিত হয়েছে, যা সেই সময়ের কারুকার্যের পরিচয় দেয়।
সুন্দরবনের ভেতরে টিকে থাকা মানব বসতির অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন এবং বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। এটি একটি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে বর্তমানে বিবেচিত হচ্ছে, যা ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ করে দেয়। খুলনা থেকে নদীপথে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং পর্যটকদের জন্য বন বিভাগ কর্তৃক উন্মুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনরা মনে করেন প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নিলে দেশী বিদেশী পর্যটকদের কাছে ভ্রমনের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এই স্থান।
