রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

আফগানিস্তানের কারাগারে নারী বন্দী : যৌন নির্যাতনের ভয়াবহ শীকার

ভারত সহ যেসকল দেশ তালেবানদের নৈতিক সমর্থন দিচ্ছে তাদের উচিত নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা।

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক

আফগানিস্তানের তালেবান কারাগারে নারী মানবাধিকার কর্মীদের ওপর ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের চিত্র: একটি বিশেষ প্রতিবেদন

আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিতে নারী মানবাধিকার কর্মীদের ওপর চলা অমানবিক নির্যাতনের এক লোমহর্ষক চিত্র উঠে এসেছে ‘Azadi-e Zan’ নামক সংস্থার একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। এই প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ারের (UN Special Rapporteur) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
পদ্ধতিগত যৌন নির্যাতন: কারাগারে আটক নারী মানবাধিকার কর্মীদের ওপর তালেবানরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে যৌন নির্যাতন চালায়। এর মধ্যে রয়েছে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করা, শ্লীলতাহানি, যৌনাঙ্গে ইলেকট্রিক শক দেওয়া, ধর্ষণ এবং গণধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ। অনেক ক্ষেত্রে ‘শাম ম্যারেজ’ বা ভুয়া বিয়ের নামে নারীদের বারবার ধর্ষণ করা হয়।
ভিডিও ধারণ ও মানসিক চাপ: নির্যাতিত নারীদের ভিডিও রেকর্ড করা হয় যাতে মুক্তি পাওয়ার পর তারা সামাজিক কলঙ্ক ও লোকলজ্জার ভয়ে মুখ খুলতে না পারে। অনেক ক্ষেত্রে অন্য বন্দীদের ওপর চলা নির্যাতন দেখতেও তাদের বাধ্য করা হয়।
নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা: প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই নির্যাতনের শিকার নারীদের অধিকাংশই হাজারা (Hazara) বা তাজিক (Tajik) জাতিগোষ্ঠীর। পশতু নারীদের আটক বা নির্যাতনের কোনো ঘটনা এই নির্দিষ্ট নথিতে পাওয়া যায়নি, যা জাতিগত বিদ্বেষের ইঙ্গিত দেয়।
সামাজিক কলঙ্ক ও আত্মহত্যার ঝুঁকি: আফগান সমাজে যৌন নির্যাতনের শিকার নারীদের প্রতি যে সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, তার ফলে মুক্তি পাওয়ার পর অনেক নারী চরম মানসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন। এই গ্লানি সহ্য করতে না পেরে অনেক নারী কারাগার থেকে ফেরার পর আত্মহত্যা করেছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসা ও সুরক্ষার অভাব: মাহরাম (পুরুষ অভিভাবক) ছাড়া চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় ভুক্তভোগী নারীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারছেন না। এছাড়া দেশ ত্যাগের জন্য পাসপোর্ট ও ভিসার উচ্চমূল্য (প্রায় ১০০০ ডলারের বেশি) তাদের পালানোর পথকেও রুদ্ধ করে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং দাতা সংস্থাগলোর পক্ষ থেকে এই নারীদের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল বা সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। তাদের দ্রুত নিরাপদ দেশে পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা এখন সময়ের দাবি।

তথ্যসূত্র:
এই তথ্যগুলো ‘Azadi-e Zan’ সংস্থা কর্তৃক জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ারের কাছে জমা দেওয়া “Sexual torture of women’s rights defenders in Taliban prisons” শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে সংগৃহীত।

সম্পর্কিত খবর

মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত চট্টগ্রাম জেলা নাজির আরিফ হোসেন

চট্টগ্রাম : মাদার তেরেসা পিস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ পদকে ভূষিত হয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা (জেলা নাজির) আরিফ হোসেন। মাদার তেরেসার ১১৬তম জন্মবার্ষিকী...

চট্টগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে উন্নয়ন কাজে গতি আনতে রাতে সরেজমিনে চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অপেক্ষায় থাকা অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের উন্নয়নকাজ এগিয়ে যাওয়ায় এ পথে চলাচলকারী নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরছে। বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম সিটি...

মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক রইসুল হক বাহারের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল

মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক রইসুল হক বাহারের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। একাত্তরের এই গেরিলা যোদ্ধা ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। কৈবল্যধাম...

ঢাবিতে সাধারণ ছাত্রদের প্রতিবাদ : জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি পদদলিত

ছবি : সংগৃহীত   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের...

চট্টগ্রাম বিপনি বিতানে কাপড়ের গুদামে আগুন

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেটে একটি কাপড়ের গুদামে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের ত্রুটিতেঅগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর)...

ক্যামেরা এখন পানির দাম, এক প্যাকেট সিগারেটের দামে ক্যামেরা পাওয়া যায় : শিল্প সচিব

চট্টগ্রাম : সরকার জাহাজভাঙা শিল্পের উন্নয়ন চায়, একই সঙ্গে চায় মৃত্যুহার জিরো হোক। শিল্পায়নের সঙ্গে রিস্ক ফ্যাক্টর আছে, সে ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। এখন...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত