আজ পহেলা ফাল্গুনে বোধনের বর্ণাঢ্য বসন্তউৎসবের আয়োজন আমবাগানে
‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। তব অবগুন্ঠিত কুন্ঠিত জীবনে’… ‘এলো বনান্তে বসন্ত। বনে বনে মনে মনে রং ছড়ায় রে, চঞ্চল তরুণ দুরন্ত’… শীতকে আনুষ্ঠানিক বিদায় দিয়ে ভালোবাসার দিনে ফাল্গুনী সমীরণ; পাতাঝরা পলাশ আর শিমুলের ডালে ডালে যে রঙ লেগেছে, সেই ঋতুরাজকে বরণ করতে দেশের পুরোধা সংগঠন বোধন আবৃত্তি পরিষদ চট্টগ্রাম পহেলা ফাল্গুন শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বন্দরনগরীর পাহাড়তলীর রেলওয়ে জাদুঘর সংলগ্ন শহীদ ওয়াসিম আকরাম পার্কে আয়োজন করে বসন্ত উৎসব ১৪৩২। সকাল থেকে শুরু হওয়া এ উৎসবের আঙিনায় ছিল কখনো সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, কখনো ঢোলবাদন, কথামালা, শোভাযাত্রা, যন্ত্রসংগীতসহ নানা আয়োজন। সকাল ৯ টায় ভায়োলিনিস্ট চিটাগাং এর যন্ত্রসংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বসন্ত উৎসবের আয়োজন। পরিচালনায় ছিলেন শিল্পী প্রিয়তোষ বড়ুয়া। বসন্তের হাওয়ায় দলীয় নৃত্যে নতুন সমীরণে স্বতঃস্ফূর্ততায় অংশ নেন নৃত্যরূপ একাডেমি , সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ, দ্যা স্কুল অব ক্লাসিক্যাল এন্ড ফোক ডান্স, নৃত্য নিকেতন, মাধুরী ডান্স একাডেমি এর নৃত্যশিল্পীরা। গানে গানে দলীয় সংগীতে বসন্তকে স্বাগত জানান সুরপঞ্চম, আর কে মিউজিক, বাগেশ্বরী সংগীতালয় । একক গান পরিবেশন করেন বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী কেশব জীপসী, কান্তা দে, রিষু তালুকদার, শিমু বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভৌমিক রাত্রি, রিনা দাশ, মনি আচার্য্য। তবলা লহড়ায় ছিলেন উঠান সংগীত বিদ্যালয়। একক আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী কংকন দাশ, মিশফাক রাসেল, দেবাশীষ রুদ্র। ঢোলবাদনে ছিলেন দীপক ও তার দল। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যভাগে হয় বসন্তকথন পর্ব। এতে অংশ নেন চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বোধনের সহ-সভাপতি সুবর্ণা চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদ ইসমাইল সোহেল, অর্থ সম্পাদক অনুপম শীল। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রশিক্ষণ সম্পাদক সঞ্জয় পাল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বিপ্লব কুমার শীল, অনুষ্ঠান সম্পাদক মৃন্ময় বিশ্বাস, সংগীতা কর চৌধুরী, পলি ঘোষ, শংকর প্রসাদ নাথ, জসিম উদ্দিন, সুচয়ন সেনগুপ্ত, লিংকন বিশ্বাস। তিনি বলেন, আমি চট্টগ্রামকে সবার চট্টগ্রাম হিসেবে দেখতে চাই। এখানে সংস্কৃতিকর্মীদের অবদান রয়েছে। একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও শোষণহীন সমাজ গঠনের জন্য বাঙালির এসব উৎসব-পার্বণগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করেন। বক্তরা বলেন, সারা বছরের নানান বঞ্চনা, নানান টানাপোড়েনের গ্লানি মুছে যায় এই বসন্তে। এই ফাগুনেই রক্তে রঞ্জিত হয়েছে বাংলার রাজপথ। বুকের রক্তে বাঙালি রক্ষা করেছে মাতৃভাষার মর্যাদা।
পরে একক ও দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করেন বোধন আবৃত্তি পরিষদের আবৃত্তিশিল্পীরা। পুরো অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী গৌতম চৌধুরী, পল্লব গুপ্ত, পলি ঘোষ, শ্রেয়সী স্রোতস্বীনি, ঋত্বিকা নন্দী। অনুষ্ঠান শেষে বসন্ত বরণ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নগরীর সড়কগুলো নানান ছন্দে, গানে, ঢোলের বাজনায় মাতিয়ে রাখে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
