বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬

ভাষার জন্য লড়াই

বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি : কী ঘটেছিল সেইদিন?

চট্টগ্রাম মেইল ডেক্স

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন বাঙালির জাতীয় জীবনে এক মর্মন্তুদ অথচ গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। বিশ্বের ইতিহাসে ভাষার জন্য অকাতরে জীবন দেয়ার দৃষ্টান্ত একমাত্র বাঙালিই স্থাপন করতে পেরেছে। বাঙালির সেই আত্মগরিমার স্বীকৃতি আজ বিশ্বজুড়ে।

সেইদিন যা ঘটেছিল-

১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যাবেলায় সরকারি ঘোষণা আসে পর দিন অর্থাৎ ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এ দিকে আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের হরতাল।

২১ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টা

পাকিস্তান সরকারের ১৪৪ ধারার পরোয়া না করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমবেত হতে থাকেন কলা ভবনের সামনে। প্রথমে পুলিশ বাধা দেয়নি। বাড়তে থাকে সমাবেশ। ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা দশ হাজার অতিক্রম করে।

গাজীউল হকের সভাপতিত্বে শুরু হয় প্রতিবাদ সভা। সভা চলার সময় খবর আসে ঢাকার লালবাগে স্কুল শিক্ষার্থীদের মিছিলের ওপর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে লাঠি চার্জ করেছে। উত্তেজনা বাড়তে থাকে। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল মতিন এবং সভাপতি গাজীউল হক উভয়েই ১৪৪ ধারা ভাঙার পক্ষে বক্তৃতা দেন। স্লোগান ওঠে ১৪৪ ধারা মানি না, মানব না।

সকাল ৯টা

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গেই পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদের সদস্যদের ভাষা সম্পর্কে সাধারণ জনগণের মতামতকে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। এ সময়ে সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত আইন পরিষদের সদস্যদের সভাস্থল ঘিরে রাখে পুলিশ।

সকাল ১১টা

১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্ররা রাস্তায় মিছিলে নামতে গেলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এ সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পুলিশকে কাঁদানে গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ করতে অনুরোধ জানান। কয়েক জনকে ১৪৪ ধারা ভাঙার অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। ছাত্রদের গ্রেফতারের পরই ছড়িয়ে পড়ে বিদ্রোহের আগুন।

দুপুর ২টা থেকে ৩টা

দুপুর ২টার দিকে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। ছাত্ররা প্রথমে আইন পরিষদের সদস্যদের আইনসভায় যোগ দিতে বাধা দিলেও পরে সিদ্ধান্ত নেন আইনসভায় গিয়ে তাদের দাবি জানাবেন। ৩টার দিকে ছাত্ররা আইনসভার দিকে এগোতে গেলে পুলিশ গুলি চালায়। গুলিতে আব্দুল জব্বার এবং রফিক উদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া অহিউল্লাহ নামের এক বছরের কিশোরসহ নিহত হন আব্দুস সালাম, আবুল বরকতসহ আরও অনেকে।

২১ ফেব্রুয়ারির গুলিবর্ষণে শহিদ হওয়া ৪ জনের মধ্যে তিনজন ছিলেন ছাত্র। এরা হলেন আবুল বরকত, জব্বার ও রফিক উদ্দিন। অন্যজন শহিদ সালাম; যিনি বাদামতলীর একটি প্রেসের কর্মচারী ছিলেন। ওই দিন রাস্তায় পড়ে থাকা আরও কিছু দেহ পুলিশ দ্রুত ট্রাকে করে তুলে নিয়ে যায়। যাদের পরিচয় আর জানা যায়নি।

এ দিকে ছাত্রদের হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে জনগণ ঘটনাস্থলে আসার উদ্যোগ নেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সব কিছু বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্রদের আন্দোলন জনমানুষের আন্দোলনে রূপ নেয়। দ্রুত ভূমিকা নেন সাংস্কৃতিক জগতের লোকজনও।

রেডিও শিল্পীরা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে শিল্পী ধর্মঘট আহ্বান করেন এবং রেডিও স্টেশন পূর্বে রেকর্ড করা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে থাকে। ভাষা শহিদদের স্মৃতিকে স্মরণে রাখতে ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গড়ে ওঠে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যা পাকিস্তান সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি ভেঙে ফেলে।

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন আরও গতি পায়। এরপর ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়ী হলে ৯ মে গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।

সম্পর্কিত খবর

১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত

বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আজ শনিবার ১১ জুলাই দুপুরে এক...

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি বাদ, নতুন ৬ দফা দাবি পেশ ছাত্রদের

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি প্রত্যাহার করে নিয়েছে আন্দোলনরত উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা। তবে ছয় দফা দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে...

দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্বাসন ও প্রস্তুতিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : সাঈদ আল নোমান এমপি

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম ১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেছেন, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং ভবিষ্যৎ দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার...

সেমি ফাইনালে ফ্রান্স হয়ে গেলো শক্তিহীন : অনায়াস জয়ে ফাইনালে স্পেন

স্পেন ২ : ০ ফ্রান্স  টুর্নামেন্টে সেরা আক্রমণভাগ ছিল ফ্রান্সের। সেরা রক্ষণ স্পেনের। ডালাসে গতকাল রাতের উভয়ের লড়াইয়ে বিজয়ী হলো স্পেনের রক্ষণভাগ। হঠাৎই বিবর্ণ হয়ে...

চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের তিন দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ

চট্টগ্রাম : বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং তাদের ক্যালকুলেটর ও জরুরি কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা...

পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে : সাতকানিয়ায় ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সাতকানিয়া উপজেলায়। পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগের...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত