আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত-সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। পাক বাহিনীর বিমান হামলার প্রতিবাদে তীব্র প্রত্যাঘাত হানল তালিবান সরকার। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, তাদের পাল্টা হামলায় অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন, গুলি করে নামানো হয়েছে একটি পাক যুদ্ধবিমান৷ কাবুলের অভিযোগ, পাকিস্তান গত কয়েকদিন ধরে আফগান ভূখণ্ডে (কাবুল, কান্দাহার এবং পাকতিয়া) বিনা প্ররোচনায় হামলা চালিয়ে নারী ও শিশু-সহ বেশ কয়েকজনকে হত্যা করেছে। এর বদলা নিতেই বৃহস্পতিবার রাতে ডুরান্ড লাইন বরাবর একযোগে প্রত্যাঘাত করে আফগান বাহিনী। চার ঘণ্টার এই তুমুল লড়াইয়ে আফগান সেনা পাকিস্তানের দু’টি সামরিক ঘাঁটি এবং ১৯টি পোস্ট দখল করেছে বলে দাবি কাবুলের। সূত্র – কলকাতা নিউজ ২৪.কম।
অন্যদিকে, আফগান প্রশাসনের এই বিপুল প্রাণহানি ও ঘাঁটি দখলের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। পাক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের পালটা দাবি, বিনা প্ররোচনায় আফগান বাহিনীই প্রথম খাইবার পাখতুনখোয়া সীমান্তে হামলা চালায়। পাকিস্তানের কড়া জবাবে অন্তত ৩৬ জন তালিবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে এবং পাকিস্তানের মাত্র ২ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না। যারা পাকিস্তানের শান্তিকামী মনোভাবকে দুর্বলতা বলে মনে করবে, তাদের যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।
এই লড়াইয়ের আঁচ গিয়ে পড়েছে দুই দেশের অন্যতম প্রধান সীমান্ত পারাপার পথ তোর্খামেও। লাগাতার গোলাগুলির জেরে তোর্খাম সীমান্তের কাছাকাছি থাকা এলাকাগুলি থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিচ্ছে দুই দেশের প্রশাসনই। উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ডুরান্ড লাইন’ নিয়ে বিবাদ দীর্ঘদিনের। আফগানিস্তান কখনই একে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। সাম্প্রতিক এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে এক বড়সড় সামরিক সঙ্কটের মুখে দাঁড় করাল।
