মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। ইরান, আমেরিকা এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলতে থাকা সংঘাতের আবহে এবার সরাসরি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আলি। সোমবার দুই নেতার মধ্যে হওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং উভয় পক্ষই দ্রুত যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফোনালাপে দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলিকে “দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক” বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, পরিস্থিতি যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে এই সংঘাত আরও বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্বের উপর।
মস্কোর বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের উপর যে সামরিক হামলা হয়েছে, সেটিকে রাশিয়া “একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপ্ররোচিত সশস্ত্র আগ্রাসন” হিসেবে দেখছে। কারণ ইরান রাষ্ট্র সংঘের সদস্য রাষ্ট্র এবং তার উপর সরাসরি হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নিয়মের পরিপন্থী বলেই মনে করছে মস্কো। এই আলোচনায় দুই নেতা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের সমাধান সামরিক শক্তি দিয়ে সম্ভব নয়। বরং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। সেই কারণেই দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তী সময়ে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদও ইরানের সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাশিয়ার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ইরান তাদের দেশের উপর হামলা চালাচ্ছে, যদিও আমিরাতের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আমিরাতের ভূমি বা সামরিক ঘাঁটি কোনোভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি। সেই কারণে ইরানের পক্ষ থেকে আমিরাতকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা “অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য” বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা এই সংঘাত ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে। আমেরিকা, ইসরায়েল, ইরানসহ একাধিক শক্তিধর দেশ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। এর প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়; বৈশ্বিক অর্থনীতি, তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
