বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা। একটি অগভীর ডোবায় পড়ে থাকা মৃত শাবকের পাশে টানা তিন দিন ধরে শোকে কাতর হয়ে পাহারা দিয়েছে একটি হাতি দম্পতি। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বটতলা মুসলিমপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বটতলা মুসলিমপাড়া এলাকাটি ভৌগোলিকভাবে বান্দরবানে হলেও এর বনাঞ্চল মূলত কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের রাজারকুল রেঞ্জের অধীনে।
সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা দীপঙ্কর চাকমা জানান, গত মঙ্গলবার থেকে একটি টিলার পাদদেশে ঘোলা পানির ডোবায় একটি হাতির শাবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। মরদেহের বেশিরভাগ অংশই পানিতে ডুবে ছিল।
লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন ছিল। এছাড়া হাতি দম্পতি সেখানে অবস্থান করায় বন কর্মকর্তারা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে পারছিলেন না।
তিনি আরও বলেন, ”সোনাইছড়ি এলাকা দিয়ে হাতির একটি চলাচলের পথ বা করিডোর রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই পথে চলাচলের সময় টিলা থেকে পড়ে ডোবায় আটকে শাবকটির মৃত্যু হয়েছে। মৃত শাবকটির বয়স আনুমানিক ছয় থেকে সাত মাস। আজ সেটিকে উদ্ধার করে যথাযথ নিয়ম মেনে দাফন করা হয়েছে।”
নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তানভীর চৌধুরী জানান, তিন দিন আগে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় একটি মৃত হাতির শাবক পড়ে থাকার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু মা ও বাবা হাতির পাহারার কারণে তারা কাছে ঘেঁষতে পারেননি এবং তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে শাবকটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের রাজারকুল রেঞ্জের অধীনে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি দাফন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে শাবকটির মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
