ইরান সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ নিরসনে পাকিস্তানের পাঠানো নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন ইরান প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। আজ সোমবার ৬ এপ্রিল ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা নতুন প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছি। এতে কিছুটা সময় লাগবে। প্রস্তাবের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাতে আমরা কোনো প্রকারের তাড়াহুড়ো করবোনা।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মার্চের মাঝামাঝি ইরানকে ১৫ দফা প্রস্তাব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ যুদ্ধের প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে সেই প্রস্তাব পাঠানো হয়। তবে ইরান তাতে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। পরে গত শনিবার পাকিস্তানের মাধ্যমে নতুন একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাঠান ট্রাম্প। সেখানে যুদ্ধ থামানোর জন্য দুই স্তরের পরিকল্পনার কথা বলা হয়। প্রথম স্তরে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতিতে যাবে। এই বিরতির সময় আলাপ-আলোচনা ও কূটনীতির ভিত্তিতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথ বের করা হবে।
নতুন প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর এবং হরমুজ প্রণালি থেকে ইরানি অবরোধ প্রত্যাহারে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির এই ৪৫ দিনে যেন ইরান হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ জারি না রাখে, সেটিও বলা হয়েছে। তবে ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তেহরান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালিকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে রাজি নয়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানে নতুন প্রস্তাব পাঠানোর পর গতকাল রবিবার তেহরানকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তাহলে দেশটির সব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
