শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি প্রত্যাহার করে নিয়েছে আন্দোলনরত উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা। তবে ছয় দফা দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসতে সচিবালয়ে প্রবেশ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বুধবার পরীক্ষা শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চ শুরুর আগে দুপুর আড়াইটায় তারা সায়েন্স ল্যাবরেটরি সড়কে অবস্থান নেন। এতে সায়েন্স ল্যাব মোড় দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকাল সোয়া ৩টার দিকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় থেকে পরীক্ষার্থীরা পদযাত্রা শুরু করেন।
শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবি হলো–
১. দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় যারা পুনরায় অংশ নিতে চায়, তাদের সেই সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
২. যারা একই বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় দেবে, তাদের ক্ষেত্রে আগের ও পুনঃপরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরটি চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করতে হবে।
৩. প্রশ্নপত্রে থাকা ভুল প্রশ্নের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দিতে হবে।
৪. চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ার জন্য কিছু সময় দিয়ে এরপর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. পূর্বঘোষণা ছাড়া প্রশ্নপত্রের ধরনে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় শিক্ষার্থীদের কাছে অপরিচিত ছিল। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নম্বর মূল্যায়ন করতে হবে।
৬. পরীক্ষা চলাকালে ‘সচেতন গার্ড’-এর নামে কিছু শিক্ষকের কঠোর ও বিভ্রান্তিকর আচরণ বন্ধ করতে হবে, যাতে পরীক্ষার্থীরা ভীত বা মানসিক চাপে না পড়ে।
উল্লেখ্য, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গ্রহণ এবং পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ সম্বোধন করা হয়েছে অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার ১৪ জুলাই রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা একইসাথে এই আন্দোলন বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ সারাদেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
