বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬

কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে আর নেই

অনলাইন ডেস্ক

ভারতীয় উপমহাদেশের সঙ্গীতজগতের এক স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল। কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে আজ রবিবার ১২ এপ্রিল ভারতের মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। শারীরিক দুর্বলতা ও বুকে সংক্রমণের কারণে তাঁকে শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. প্রতীত সামদানী তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাংলির গোয়ার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। তাঁর বাবা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন একজন বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা। অল্প বয়সেই বাবাকে হারানোর পর পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর ও তাঁর দিদি লতা মঙ্গেশকরের কাঁধে। এরপর তাঁরা মুম্বইয়ে এসে চলচ্চিত্র জগতে গানের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করেন।
মাত্র ১০ বছর বয়সে গান রেকর্ডিং শুরু করেন আশা। ১৯৪৩ সালে মারাঠি ছবিতে গান গাওয়ার মাধ্যমে তাঁর যাত্রা শুরু হলেও, ১৯৪৮ সালে হিন্দি চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন বলিউডের সোনালি যুগের অন্যতম কণ্ঠস্বর। মহম্মদ রফি, কিশোর কুমার, মুকেশ এবং মান্নাদের মত দিকপাল শিল্পীদের সঙ্গে একই যুগে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন তিনি।
আশা ভোঁসলের কণ্ঠের বহুমুখিতা ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি গেয়েছেন শাস্ত্রীয় সংগীত, গজল, ভজন, কাওয়ালি, পপ, লোকসংগীত থেকে শুরু করে রবীন্দ্রসংগীতও। জীবনে তিনি ২০টিরও বেশি ভাষায় ১২,০০০-এর বেশি গান রেকর্ড করেছেন বলে জানা যায়। তাঁর কণ্ঠে “পিয়া তু আব তো আজা”, “ইয়ে মেরা দিল”, “চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে” কিংবা “দিল চীজ ক্যা হ্যায়” আজও সমান জনপ্রিয়। সংগীতজগতে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য ২০০০ সালে তাঁকে দেওয়া হয় ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এবং ২০০৮ সালে পদ্ম ভূষণ। এছাড়াও তিনি দুইবার ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

শুধু বলিউডেই নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও তাঁর প্রভাব ছিল লক্ষণীয়। ব্রিটিশ ব্যান্ড কর্নার শপ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে “Brimful of Asha” গানটি তৈরি করে, যা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তীকালে আধুনিক সংগীতেও নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। এ আর রহমানের সঙ্গে কাজ করে “রঙ্গীলা রে” ও “তানহা তানহা”-র মতো হিট গান উপহার দেন। আশা ভোঁসলের ক্যারিয়ার শুধুমাত্র গানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০১৩ সালে “মাই” ছবিতে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসাও কুড়িয়েছিলেন তিনি।

তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংগীতপ্রেমীদের মনে। আট দশকেরও বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি যে সুরের জগৎ তৈরি করেছেন, তা চিরকাল অমর হয়ে থাকবে। আশা ভোঁসলে শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি এক যুগের প্রতীক যে যুগে সুর, শব্দ আর আবেগ মিলেমিশে সৃষ্টি করত অনন্য জাদু।

সম্পর্কিত খবর

বৈশাখের আয়োজন অসাম্প্রদায়িক চেতনারই প্রতিফলন : মীর হেলাল

পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে বৈশাখের আয়োজন বাংলাদেশীর অসাম্প্রদায়িক চেতনারই প্রতিফলন। এটি শুধু...

রাউজান বাজারে মুদির দোকানে অগ্নিকান্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ৫ লাখ টাকা

চট্টগ্রাম রাউজান উপজেলার বিনাজুরী ইউনিয়নের কাগতিয়া বাজারে কৃষ্ণ মুহুরীর মালিকানাধীন ‘মেসার্স রনি স্টোর’ নামক একটি মুদির দোকানে গত ৬ এপ্রিল রাতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায়...

নববর্ষে ঐক্যের আহ্বান জানালেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র সুসংহত করতে নববর্ষে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ১৬ বছরের...

আগামীকাল মনোজ বাহাদুর গুর্খা রচিত গানের ‘সংংগীত সন্ধ্যা’

পার্বত্য চট্টগ্রামের যশস্বী সংগীত গুরু, লেখক ও সংগীত রচয়িতা -  মনোজ বাহাদুর গুর্খা এর রচিত সুর নিকেতন, রাঙ্গামাটি'র আয়োজনে "আমার যত গান" শিরোনামে সংগীত সন্ধ্যা...

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সকল সদস্যের পদত্যাগ

বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্য পদত্যাগ করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা কমিশন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।...

জাতীয় সংসদে ‘শিল্পকলা একাডেমি সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬’ পাস: স্বীকৃতি পেল আবৃত্তিশিল্প

বাঙালি সংস্কৃতি ও শুদ্ধ ভাষা চর্চার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ 'আবৃত্তি' অবশেষে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর স্বীকৃতি লাভ করলো। আজ, শুক্রবার, সকালে জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন)...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত