বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬

বাংলাদেশে ইতিহাসে আরেকটি অধ্যায়ের নাম ভয়াল ২৯ এপ্রিল, দেখতে দেখতে পূর্ণ হলো ৩৫ বছর

কে এম রাজীব

সকাল থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি, সূর্যের আলো উঠেনি। সবার মুখে মুখে একটি শব্দ, আজ ১০ নাম্বার মহাবিপদ সংকেত। তবু্ও থেমে ছিলোনা মানুষের কর্ম ব্যস্ততা। এভাবে সকাল গড়িয়ে দুপুর আর দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা তবু থেমে নেই ভয়ালের মোহরা। ধীরে ধীরে ঘরমুখো মানুষ গুলো ফিরতে লাগলো এবং যে যার মতো করে ঘরে অবস্থান করতে লাগলো। সন্ধ্যা পেড়িয়ে রাতের প্রহরে রেডিও টেলিভিশন বুলেটিন শুরু যেখানে বলা হয়, আজ ১০ নাম্বার মহাবিপদ সংকেত, বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চল দিয়ে ঝড় বয়ে যেতে পারে, সাথে বাতাসের গতিবেগ ২০০/২৫০ কিমি বয়ে যেতে পারে। সাথে সাথে উপকূলের মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম হলো শুরু। রাত ১০টায় বাংলাদেশের বুকে আঘাত হানে ঘুর্ণিঝড় ” ম্যারি এন “। তান্ডব চালায় গভীর রাত পর্যন্ত। লণ্ডভণ্ড করে দেয় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল। বাংলাদেশে ইতিহাসে আরেকটি অধ্যায় সৃষ্টি হলো যার নাম ভয়াল ২৯ এপ্রিল।

আজ সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রামের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত করেছিলো প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়। সে ঘূর্ণিঝড়ে কয়েক ঘণ্টায় লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিলো উপকূলীয় এলাকা। চট্টগ্রামসহ দেশের উপকূলীয় জেলা-উপজেলার অসংখ্য মানুষ সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারান। লাশের পরে লাশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ছিল সর্বত্র। ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়েছিল বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল। বিশ্ববাসী বাকরুদ্ধ হয়ে সেদিন প্রত্যক্ষ করেছিল প্রকৃতির নিষ্ঠুর এই আঘাত। সেই প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের তিন দশক পেরিয়ে গেলেও, সেই বিভীষিকার স্মৃতি আজও কাঁদায় চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের। সেই সময়ে স্বজন হারানোর আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছিল চারদিকের পরিবেশ। পরদিন সারা বিশ্বের মানুষ অবাকবিস্ময়ে তাকিয়ে দেখেছিলেন ধ্বংসলীলা। আর্তনাদে কেঁপে উঠেছিল বিশ্ব-বিবেক। সরকারিভাবে বলা হয়, এই দুর্যোগের ১ লাখ ৩৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারায় । তবে বেসরকারিভাবে প্রকৃতির এ ধ্বংসযজ্ঞে মৃতের সংখ্যা আরো বেশি বলে জানা যায়।

এই ঘূর্ণিঝড়ে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ‘ম্যারি এন’ নামে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হেনেছিল কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার পুরো উপকূল। উপকূলবাসী আজও ভুলতে পারছে না সেই রাতের দুঃসহ স্মৃতি। এই ঘূর্ণিঝড়ে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা, পতেঙ্গা, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও হাতিয়াসহ পুরো উপকূলজুড়েই মানুষ মারা গিয়েছিলেন।

১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে নিহতের সংখ্যা বিচারে পৃথিবীর ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল মধ্যরাতে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানা এ ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়টিতে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ কিমি (১৫৫ মাইল/ঘণ্টা)। ঘূর্ণিঝড় ও এর প্রভাবে সৃষ্ট ৬ মিটার (২০ ফুট) উঁচু জলোচ্ছ্বাসে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৪২ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে এর সংখ্যা আরও বেশি। ঘূর্ণিঝড়ে মানুষ ছাড়াও মারা যায় প্রায় ২০ লাখ গবাদিপশু। গৃহহারা হয় হাজার হাজার পরিবার। আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ। প্রায় এক কোটি মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছিল।

প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালের এই দিনে স্মরণকালের সেই ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস চট্টগ্রাম কক্সবাজারের দ্বীপাঞ্চলসহ উপকূলীয় এলাকা তছনছ করে এক মহাধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করেছিল। রাতের অন্ধকারে কয়েক ঘণ্টায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল উপকূলীয় এলাকা। আজকের দিনে সেই দিনটি মনে করিয়ে দেই স্বজন হারানো স্বজনদের আর্তনাদ।

সম্পর্কিত খবর

চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের তিন দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ

চট্টগ্রাম : বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং তাদের ক্যালকুলেটর ও জরুরি কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা...

শুধু তোমার জন্য

শুধু তোমার জন্য কৌশিক ভট্টাচার্য্য তোমার আমার প্রথম দেখাটা মনে আছে? একটা ভিন্নরকম ব্যাপার ছিলো, তাই না| সমুদ্র দেখতে গিয়েছিলাম, তুমিও সেদিন সমুদ্রের ধারে জলকেলি করছিলে| চুপিসারে তুমি আমায় দেখছিলে পিছু...

রোপিত গাছের যত্ন নিয়ে তার নিরাপদে বেড়ে উঠা নিশ্চিত করতে হবে : জনাব আবু সুফিয়ান এমপি

চট্টগ্রাম : গাছ আমাদের পরম বন্ধু। কিন্তু বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের যে বিরূপ প্রভাব আমরা প্রত্যক্ষ করছি, তাতে গাছ শুধু আমাদের বন্ধু নয়, বরং আমাদের...

দুর্ভোগ লাঘবে সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

চট্টগ্রাম : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, টানা ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার এবং স্থানীয়...

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর চরলক্ষ্যা এলাকা থেকে উদ্ধার হলো ব্রাজিলের তৈরি পিস্তল

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি ব্রাজিলে তৈরি বিদেশি ৯ এমএম পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাতে কর্ণফুলী থানার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের...

পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে : সাতকানিয়ায় ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সাতকানিয়া উপজেলায়। পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগের...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত