চট্টগ্রাম : সীতাকুণ্ডে শুদ্ধ সংগীতচর্চার এক অনন্য ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সুরনন্দনের ১ম বার্ষিক শাস্ত্রীয় ও উপ-শাস্ত্রীয় সঙ্গীত সম্মিলন। গত ২ জুন, মঙ্গলবার সংগীতগুণী প্রদীপ ভট্টাচার্য্যের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে সীতাকুণ্ডের এল. কে. সিদ্দিকী স্কয়ারে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সুরনন্দন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রদীপ ভট্টাচার্য্যের পুত্র পেনিনসুলা গ্রুপের প্রধান মানবসম্পদ ও প্রশাসন কর্মকর্তা প্রতীক ভট্টাচার্য্য। সুর, তাল, লয় ও নৃত্যের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় দিনভর মুখর ছিল পুরো আয়োজন, যা দর্শক-শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে।
দিনব্যাপী আয়োজনের প্রথম পর্বে সুরনন্দনের শতাধিক শিক্ষার্থী একক সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিভা ও সাধনার পরিচয় তুলে ধরে। ক্ষুদে ও নবীন শিল্পীদের এই প্রাণবন্ত পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকবৃন্দকে গভীরভাবে মুগ্ধ করে।
দিবসের দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সুরনন্দনের সভাপতি ও গল্পকার দেবাশিস ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অতিথিবৃন্দের প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সঙ্গীত সম্মিলনের উদ্বোধন করা হয়। এতে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক নজির আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মোঃ বখতিয়ার উদ্দিন, এ.সি.এল. লিংকের নির্বাহী পরিচালক সুনন্দ ভট্টাচার্য্য সাগর, বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী লিটন দাশ, সুরনন্দনের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক উজ্জ্বল কান্তি দাশ। বাচিকশিল্পী মোঃ গোলাম সাদেক ও পাতা দে বৃষ্টির সাবলীল ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে সুরনন্দনের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সীতাকুণ্ডে শুদ্ধ সংগীতচর্চার বিকাশে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উদ্বোধনী পর্বের পর সুরনন্দনের পরিচালক শিল্পী ঋক ভট্টাচার্য্যের পরিচালনায় শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত শাস্ত্রীয় ও উপ-শাস্ত্রীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। একের পর এক চমৎকার পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে দর্শকরা শিল্পীদের করতালির মাধ্যমে উৎসাহিত করেন। এরপর নৃত্যশিল্পী পাপড়ি চক্রবর্তীর পরিচালনায় ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা সম্মিলিত শাস্ত্রীয় নৃত্য পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের সমাদর লাভ করে। পরে শিল্পী লিটন চৌধুরীর পরিচালনায় বৃন্দ তবলাবাদনের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।
দিনের তৃতীয় ও শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় একক শাস্ত্রীয় ও উপ-শাস্ত্রীয় সংগীতানুষ্ঠান। এতে সংগীত পরিবেশন করেন দেশের বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী লিটন দাশ, সুজন দাশ, ঋক ভট্টাচার্য্য, দীপঙ্কর চক্রবর্তী দীপ্ত এবং সাঈম হাসান সানী। এই পর্বে তবলায় সঙ্গত করেন খ্যাতিমান তবলাশিল্পী সানি দে, লিটন চৌধুরী, প্রতিক চৌধুরী ও প্রীতম নাথ। পাশাপাশি কীবোর্ডে ছিলেন প্রবীর আচার্য্য এবং অক্টোপ্যাডে চমৎকার সঙ্গত দেন অভি আচার্য্য ও প্রান্ত বনিক।

সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটির সফল বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করেন সুরনন্দনের অন্যতম সদস্য অপি দেব নাথ ও প্রিয়তোষ নন্দী। দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীর মাঝে সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শুদ্ধ সংগীতের চর্চা, লালন, প্রচার ও প্রসারের প্রত্যয়ে প্রতিষ্ঠিত সুরনন্দনের এই আয়োজন কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল না, বরং নতুন প্রজন্মের মাঝে শাস্ত্রীয় ও উপ-শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলার এক আন্তরিক প্রয়াস। সংগীতের নির্মল সৌন্দর্য, নবীনদের উচ্ছ্বাস এবং গুণীজনদের অনুপ্রেরণায় সুরনন্দনের প্রথম বার্ষিক সঙ্গীত সম্মিলনটি হয়ে উঠেছিল এক হৃদয়স্পর্শী সাংস্কৃতিক উৎসব, যার রেশ সীতাকুণ্ডের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘকাল প্রতিধ্বনিত হবে।
