নরওয়ে ৪ : ১ ইরাক
দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফিরেছে নরওয়ে। আর সেই ফেরাটা যে দারুণ হতে যাচ্ছে, তার জানান দিলেন তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। তাঁর জোড়া গোলে ইরাককে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ‘জি’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে নরওয়ে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের এই ম্যাচে পুরো মাঠজুড়ে ছিল ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকার দাপট।
ম্যাচের ২৮তম মিনিটে নুসায়ের দারুণ এক ক্রস থেকে পা ছুঁইয়ে গোল করে নিজের জাত চেনান হালান্ড। এরপর ৪৩তম মিনিটে ইরাকি ডিফেন্সের চরম ভুলে আরেকটি গোল পেয়ে যান তিনি।
হালান্ড যেন ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই একই মন্ত্রে বিশ্বাসী বল ছোঁয়া কম, কিন্তু গোল করা অনেক। তার এই ক্ষিপ্রতায় মাত্র ৪৩ মিনিটেই দুই গোল করে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় নরওয়ে।
বাকি গোল দুটি আসে অস্টিগার্ড এবং ইরাকের হোসেনের আত্মঘাতী গোল থেকে।
ম্যাচে ইরাকের হয়ে একমাত্র গোলটিও আইমেন হুসেইনের। সেটা সমতাসূচক গোল। ২৯ মিনিটে হলান্ড নরওয়েকে এগিয়ে দেওয়ার পর ৩৯ মিনিটে হেডে গোল করেন আইমেন। পরে আত্মঘাতী গোল করায় বিশ্বকাপে বিরল এক তালিকায়ও নাম লেখান তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এক ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি আত্মঘাতী গোলও করলেন আইমেন।
ম্যাচের শেষের দিকে এসে নরওয়ের দীর্ঘদেহী খেলোয়াড়দের সামনে ইরাকের খেলোয়াড়দের রীতিমতো অসহায় লাগছিলো। শেষ পর্যন্ত নরওয়ে ৪-১ গোলের ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে।
বিশ্বকাপে এ নিয়ে দ্বিতীয় গোল পেল ইরাক। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোল পেয়েছিল ইরাক। ৪০ বছর ৯ দিন পর আইমেনের কল্যাণে আরেকটি গোলের দেখা পেল দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা ইরাক।
বিপরীতে ১৯৩৮ বিশ্বকাপের পর ৫৬ বছর ২৮ দিনের বিরতি নিয়ে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে এই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই দ্বিতীয় গোল পেয়েছিল নরওয়ে। সেই নরওয়ে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে এবার প্রথম ম্যাচেই পেল চার গোলের দেখা। বিশ্বকাপে এটাই তাদের সবচেয়ে বড় জয়।