ফ্রান্স ৩ : ১ সেনেগাল
কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে ফেভারিট ফ্রান্স বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এ দারুণ সূচনা করেছে। যদিও সেনেগালও সমানতালে লড়াই করেছে, বিশেষ করে খেলার প্রথমভাগ ছিলো পুরোই সেনেগালের দখলে। কিন্তু একজন এমবাপ্পেই গড়ে দিলেন দুই দলের মধ্যে তফাত।
ফরাসি রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেও প্রথমার্ধে গোলের মুখ খুলতে পারেনি সেনেগাল। সেখানে ফ্রান্সের অবস্থা ছিলো ছন্নছাড়া। তবে বিরতির পর বদলে গেল খেলা। আরও ভালো করে বলা যায় বদলে দিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। জোড়া গোলে জোড়া রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের শুরুটা করলেন দারুণভাবে। ফ্রান্সও পেল ৩-১ গোলের জয়।
নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধে পাপে থিয়াওয়ের সেনেগাল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল। তাদের ৪-৪-২ ফরমেশনের প্রেসিংয়ের সামনে ফ্রান্সের মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগ ছিল নিষ্ক্রিয়। প্রথমার্ধে ফ্রান্স গোলবার লক্ষ্য করে একটি শটও নিতে পারেনি। বিপরীতে ২৫ মিনিটে সেনেগালের নিকোলাস জ্যাকসনের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। যোগ করা সময়ের ছয় মিনিটে সাদিও মানের পাসে মাত্র আট গজ দূর থেকে বল বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন ইসমাইলা সার।
দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স তাদের কৌশল পরিবর্তন করে। মাইকেল ওলিসেকেে রাইট উইং থেকে সরিয়ে মাঝমাঠে ফ্রি-রোলে নিয়ে আসেন কোচ দিদিয়ের দেশম। এর সুফল মেলে ৬৬ মিনিটে; ওলিসের পাস থেকে প্রথম টাচে কোনাকুনি শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন অধিনায়ক এমবাপ্পে। এই গোলের মাধ্যমে ২০০৬ সালের ফাইনালে জিনেদিন জিদানের পর প্রথম ফরাসি অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েন তিনি।
পিছিয়ে পড়ে সেনেগাল আক্রমণে গতি বাড়ালেও ৬৮ মিনিটে অফসাইডের কারণে নিকোলাস জ্যাকসনের দুটি গোল বাতিল হয়। এরপরই ৮১ মিনিটে উসমান দেম্বেলের পরিবর্তে মাঠে নামেন ব্রাডলি বারকোলা। মাঠে নামার এক মিনিটের মাথায় আদ্রিয়েন রাবিওর পাস থেকে দারুণ এক চিপ শটে সেনেগাল গোলরক্ষককে বোকা বানান এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে রাবিওর ভুল থেকে বল পেয়ে ব্যবধান কমান সেনেগালের ১৮ বছর বয়সী বদলি স্ট্রাইকার ইব্রাহিম এমবায়ে। তবে এর পরের মিনিটেই পাল্টা আক্রমণে ওলিসের পাস থেকে ডিবক্সের প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দূরপাল্লার জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। এই গোলে ফ্রান্সের জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুটি রেকর্ড নিজের নামে করে নেন তিনি। ৫৮ গোলে অলিভিয়ের জিরুকে টপকে হয়েছেন ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা। শুধু তা–ই নয়, ১৪ গোল নিয়ে জাঁ ফন্টেইনকে (১৩) টপকে বিশ্বকাপের ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ গোলেরও মালিক এই ফরাসি স্ট্রাইকার। আর মাত্র তিনটি গোল পেলেই জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে নাম লেখাবেন এমবাপ্পে।
