সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

চীন থেকে ২০টি ‘জে-১০সিই’ যুদ্ধবিমান কিনতে চলেছে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ শীঘ্রই চীনের কাছ থেকে ২০টি ‘জে-১০সিই’ (J-10CE) মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান কিনতে পারে। এই চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো যুক্ত হলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপটিকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের সামরিক বলয় তৈরি এবং কৌশলগত প্রতিযোগিতার বৃহত্তর প্রেক্ষাপট থেকে দেখছেন। J-10CE হলো সেই একই যুদ্ধবিমান যা পাকিস্তান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিল। পাকিস্তান ও চীনের দাবি, ভারতের ব্যবহৃত ফ্রান্সের তৈরী রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমানের তুলনায় J-10CE অধিকতর ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।

এই চুক্তির আনুমানিক মূল্য হতে পারে ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চুক্তির অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিমান, লজিস্টিকস বা রসদ সহায়তা, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর দায়িত্ব গ্রহণকারী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চীনের সাথে এই চুক্তিটি করেছিল। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আঞ্চলিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে এটি বাংলাদেশের বাহ্যিক নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কেনাকাটার মূল্য ১০ বছরে কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে এবং ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে বিমানগুলো হস্তান্তর করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশ সরকার নিজ দেশের আর্থিক পরিস্থিতির ওপর তাৎক্ষণিক ও ভারী কোনো বোঝা না চাপিয়েই তার ট্যাকটিক্যাল এভিয়েশন বহরকে আধুনিক করে তুলতে পারবে।

এই চুক্তিটি নিয়ে আন্তর্জাতিক সমর বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ জে-১০সিই (J-10CE) হলো ৪.৫ প্রজন্মের একটি যুদ্ধবিমান। এটি অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিকলি স্ক্যানড অ্যারে (AESA) রাডার, আধুনিক ডেটা লিঙ্ক, দৃষ্টিসীমার বাইরে আঘাত হানতে সক্ষম (BVR) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সুবিধা এবং নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দ্বারা সুসজ্জিত। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ মূলত আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নিজেদের নাম লেখাতে যাচ্ছে বলেই বিশ্লেষকদের মত। তবে এই চুক্তি বাস্তব রূপ পেলে বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সমরনীতি এটার দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে বলেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মত। আবার এই চুক্তির কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও অসন্তুষ্ট হতে পারে। অতএব এই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত এই তিন বৃহৎ পরাশক্তির সাথে বাংলাদেশ সরকারের সমন্বিত বোঝাপড়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেই বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

সূত্র – কলকাতা নিউজ২৪.কম

সম্পর্কিত খবর

সম্প্রতি শেষ হওয়া একটি শিক্ষা বিভাগীয় ইভেন্টে সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ের অংশ গ্রহণের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব না পাওয়াটা দুঃখজনক : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী...

সম্প্রতি শেষ হওয়া শিক্ষা বিভাগীয় একটি আয়োজনে সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ সত্ত্বেও বিষয়টি দেশের সংবাদমাধ্যমে প্রত্যাশিত গুরুত্ব না পাওয়ার বিষয়ে নিজের...

আগামী ৬ মাসে ৫টি ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে যাচ্ছে সরকার

আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে মোট ৫টি ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে...

পানামাকে ১-০ গোলে হারিয়ে যাত্রা শুরু ঘানার

পানামা ০ : ১ ঘানা বিশ্বকাপ ফুটবলের ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হলো ৯৫তম মিনিটে। পানামার বিশ্বকাপ প্রত্যাবর্তন বিষাদময় করে ঘানা জিতে গেল শেষের ওই...

গণভোটের রায় সংসদে বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে হবে : জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন,...

ড্র করে বিশ্বকাপ ফুটবলে যাত্রা শুরু করলো নেদারল্যান্ডস ও জাপান

নেদারল্যান্ডস ২ : ২ জাপান ইউরোপের ফুটবল পরাশক্তি নেদারল্যান্ডস এবং এশিয়ার ফুটবল পরাশক্তি জাপান কেউই কাউকে হারাতে পারলোনা। ২ - ২ ড্র দিয়েই তারা বিশ্বকাপ...

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জাল দলিল সৃজনে জমি দখল ও দোকান ঘর নির্মাণের অভিযোগ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মধ্যম কাঞ্চনা ৪ নং ওয়ার্ডে জাল দলিল সৃজন করে নন্দী পাড়া এলাকায় হিন্দুদের শবদাহ করার স্থান শ্মশানভূমির অংশ সহ অন্যান্য ভূমি জাল...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত