রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

সম্প্রতি শেষ হওয়া একটি শিক্ষা বিভাগীয় ইভেন্টে সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ের অংশ গ্রহণের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব না পাওয়াটা দুঃখজনক : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্প্রতি শেষ হওয়া শিক্ষা বিভাগীয় একটি আয়োজনে সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ সত্ত্বেও বিষয়টি দেশের সংবাদমাধ্যমে প্রত্যাশিত গুরুত্ব না পাওয়ার বিষয়ে নিজের মনোভাব ব্যক্ত করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজের এই মনোভাব তুলে ধরেন। এ সময় দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এছাড়াও তিনি প্রতিশোধের মানিসকতা পরিহার করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে নিজের প্রতি হওয়া অন্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে জনাব তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা আমাদের নিজেদের চিন্তা কিছুটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। হ্যাঁ, আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। কিন্তু আপনি এখন প্রতিশোধ নিলেই কি আপনার সেই ক্ষতি ফেরত পাবেন বা সবকিছু আগের মতো হয়ে যাবে? হবে না। তাহলে আমরা সেই প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে ভাবি যে, আমরা দেশ ও সমাজের জন্য কী করতে পারি? সফল হওয়া বা না হওয়া পরের ব্যাপার। অন্তত এই মানসিকতা নিয়ে কেন আমরা সামনের দিনে এগিয়ে যাব না?’

সরকার প্রধান বলেন, ‘১৬ জুন সংবাদপত্র জগতের জন্য, বিশেষ করে বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজকের এই দিনে একসময় বাংলাদেশের সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। আর আজ সেই দিনে আমরা সংখ্যক সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছি। তার মানে একটি বিষয় প্রমাণিত হয়েছে যে, সংবাদপত্রের কণ্ঠ যেভাবে চেপে ধরা হয়েছিল, সেটি অন্তত এই মুহূর্তে আর নেই। এটি প্রথম বিষয়। দ্বিতীয় বিষয় হলো, সংবাদপত্রের যে মাল্টি-পার্টি ডেমোক্রেসি (বহুদলীয় গণতন্ত্র), সেটিকে কেড়ে নিয়ে মাত্র চারটি সংবাদপত্র বাদে সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। একই সময়ে আমরা দেখেছি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে বিলুপ্ত করে ‘বাকশাল’ নামে একটি দল গঠন করা হয়েছিল। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন, তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করলেন এবং একই সঙ্গে সংবাদপত্রের ওপর থেকে সমন্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেন। পরবর্তী সময়ে কী হয়েছে তা আপনাদের কথা থেকেই বেরিয়ে এসেছে।’

বর্তমানে দেশে গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার পরিবেশ নেই বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।

জনাব তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মের সামনে এখন একটি বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক। বিশ্বব্যাপী কমবেশি থাকলেও আমাদের এখানে এর প্রকোপ আশঙ্কাজনক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কতজনকে ধরব, কতজনকে চিকিৎসা দেব বা কাউন্সেলিং করব? আমাদের তো সক্ষমতা ও সম্পদের একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই এই সমস্যার সমাধানে আমাদের বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।’ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের শারীরিক ও মানসিক যে বিপুল শক্তি থাকে, তা ইতিবাচক খাতে ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে। আর এর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো খেলাধুলা ও সংস্কৃতি। অথচ ঢাকা শহরসহ সারা দেশে এখন খেলার মাঠের তীব্র সংকট।

তরুণদের এই শক্তিকে কাজে লাগাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে “নতুন কুঁড়ি” স্পোর্টস ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করেছি। সম্প্রতি শেষ হওয়া একটি শিক্ষা বিভাগীয় ইভেন্টে সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে। দল-মতনির্বিশেষে সকল পরিবারের সন্তানেরা এখানে যুক্ত হয়েছে। অথচ দুঃখের বিষয়, এত বড় একটি আয়োজন আমাদের দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে সেভাবে গুরুত্ব পায়নি।’

কেবল খেলাধুলা নয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে তরুণদের মেধা বিকাশের জন্য জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী মেলা বা সায়েন্স ফেয়ার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার ওপর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকাল দেখা যায় একটা জীবন্ত প্রাণীকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে এবং ১০ জন মিলে তা মোবাইলে রেকর্ড করছে। এগুলো অস্বাভাবিক মানসিকতা। স্কুল পর্যায় থেকেই আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং সরকারের প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়েও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশের লক্ষ্যে দেশব্যাপী ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো এই বৃহৎ আয়োজন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচি উপজেলা, জেলা ও জাতীয়—এই তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ২৮ জুন রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নির্বাচিত দলগুলো তাদের স্টার্টআপ, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করবে।

সম্পর্কিত খবর

একনেকে ১২টি প্রকল্প অনুমোদিত : রাজধানীতে ৩টি নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প

ছবি - সংগৃহীতআজ বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত একনেকের বৈঠকে রাজধানী ঢাকায় তিনটি মেট্রোরেলসহ মোট ১২টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ...

দুই-তিন দিন ধরে জ্বর থাকলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম : ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, শুধু মশক নিধন কার্যক্রম...

অন্যায় যতবার ফিরে আসার চেষ্টা করবে, জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ ততবার জেগে উঠবে: সাঈদ আল নোমান এমপি

দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত ও আওয়ামী সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ অবস্থান জানিয়ে চট্টগ্রাম ১০ সংসদীয় আসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিএনপি...

চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে...

ঢাবিতে সাধারণ ছাত্রদের প্রতিবাদ : জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি পদদলিত

ছবি : সংগৃহীত   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের...

সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সময় : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সময় হওয়ায় এসময়ে মশক নিধন ও জনসচেতনতা...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত