গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বলেছেন, ‘ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই। পবিত্র আশুরা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, ইসলামের মূল শিক্ষা শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত।’ আগামীকাল শুক্রবার পবিত্র আশুরা (১০ মহররম) উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বাণীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জনাব তারেক রহমান বলেন, ‘হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখে পালিত হয় পবিত্র আশুরা। ইসলামের ইতিহাসে এটি এক অনন্য তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এটি শুধু শোক ও স্মরণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সত্য, ন্যায়, ধৈর্য, ত্যাগ ও নৈতিক দৃঢ়তার চিরন্তন শিক্ষা ধারণ করে। কারবালার ঘটনা মানব ইতিহাসের এমন এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়, যা যুগে যুগে মানুষকে সত্যের পক্ষে এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে অনুপ্রাণিত করে আসছে।’
সরকার প্রধান আরও বলেন, ‘ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই। তাই আশুরার মহান শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আসুন আমরা সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করি। একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে নিজেদের আরও নিবেদিত করি।’ তিনি আরও বলেন, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার যে শিক্ষা কারবালা আমাদের দিয়েছে, তা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরণার উৎস জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশ বছর আগে কারবালার প্রান্তরে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) তার পরিবারের সদস্য ও বিশ্বস্ত সঙ্গীদের নিয়ে জুলুম, অন্যায় ও স্বৈরাচারের কাছে মাথা নত না করে শাহাদতের মহান মর্যাদা বরণ করেছিলেন। তার এই আত্মত্যাগ কারবালাকে সত্য ও ন্যায়ের জন্য সংগ্রামের এক অবিনাশী প্রতীকে পরিণত করেছে।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে জনাব তারেক রহমান সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং একই সঙ্গে কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনায় শাহাদতবরণকারী তার পরিবারের সদস্য ও সঙ্গীদের পবিত্র স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।এছাড়াও তিনি এই শোকাবহ দিনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর প্রতিও গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
