ক্যান্সারের বিস্তারের কারণে ৯০ শতাংশেরও বেশি রোগীর মৃত্যু হয়, তবে উদ্ভিদ বিজ্ঞানের একটি অভাবনীয় আবিষ্কার এখন এই মরণঘাতী মেটাস্ট্যাসিস বা ক্যান্সারের ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে পারে।
এই যুগান্তকারী গবেষণার নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশি গবেষক ড. হেমায়েত উল্লাহ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও ইউনিভার্সিটি অফ নর্থ ক্যারোলিনা থেকে মলিকিউলার বায়োলজিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন এবং দীর্ঘ ২২ বছর ধরে হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজি বিভাগে অধ্যাপনা করছেন। তাঁর সাথে এই গবেষণায় যুক্ত আছেন ভারতের ড. শিবানেসান দক্ষিণামূর্তি, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের লম্বার্ডি কমপ্রিহেনসিভ ক্যান্সার সেন্টারের অনকোলজি বিভাগের গবেষক।
ড. হেমায়েত উল্লাহ এবং তার দল ল্যাবরেটরিতে তৈরি কিছু ক্ষুদ্র অণুর জন্য একটি নতুন প্যাটেন্ট অর্জন করেছেন, যা ক্যান্সার কোষের বিস্তার রোধ করতে সক্ষম। ২০১৯ সালে এই প্যাটেন্টের জন্য প্রোভিশনাল আবেদন করার পর দীর্ঘ প্রক্রিয়া পেরিয়ে সম্প্রতি ২০২৬ সালে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, উদ্ভিদকে পরিবেশগত চাপ থেকে বাঁচাতে এবং মানুষের প্যাথোজেনিক ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরি রোধ করতে পূর্বে ব্যবহৃত এই বহুমুখী অণুগুলোর এটি তৃতীয় প্যাটেন্ট। এই সফলতার ফলে প্রযুক্তিটিকে এখন খুব সহজেই ইন ভিভো প্রি-ক্লিনিক্যাল মডেল এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
এই অণুগুলো মূলত RACK1 নামক একটি প্রোটিনকে লক্ষ্য করে কাজ করে, যা কোষের গতিশীলতা এবং ক্যান্সারের বিস্তারের একটি প্রধান নিয়ন্ত্রক। গবেষকরা দেখেছেন যে, উদ্ভিদ এবং মানুষের RACK1 প্রোটিনের গঠনগত মিল রয়েছে। তাই তাদের তৈরি SD29 এবং SD29-14 ইনহিবিটরগুলো ফোকাল অ্যাডেসন কাইনেজ (FAK) এর কার্যকারিতা আটকে দিয়ে মানবদেহের স্তন ক্যান্সারের (যেমন MCF7 এবং ট্রিপল নেগেটিভ MDA-MB-231) বিস্তৃতি ঠেকাতেও অত্যন্ত কার্যকর।
যৌথ এই গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, তৈরি করা ইনহিবিটরগুলো ক্যান্সার কোষের নির্দিষ্ট সিগন্যালিং পথকে সফলভাবে ব্লক করে দেয়। এছাড়া প্রোটিন বিশ্লেষণে অ্যানেক্সিন এবং ভাইমেন্টিন প্রোটিনের পরিবর্তিত মাত্রাও এই ক্ষুদ্র অণুগুলোর মেটাস্ট্যাসিস বিরোধী ভূমিকার সত্যতা নিশ্চিত করে। এটি এমন একটি পদ্ধতি যা মেটাস্ট্যাসিসের জন্য দায়ী নির্দিষ্ট সেলুলার সিগন্যালগুলোকে বাধাগ্রস্ত করে ক্যান্সারের বিস্তার পুরোপুরি থামিয়ে দিতে পারে।
বর্তমানে ক্যান্সারের এই আক্রমণাত্মক কোষগুলোকে সরাসরি লক্ষ্য করে কাজ করার মতো কোনো কার্যকর ওষুধ নেই। তবে RACK1 প্রোটিনকে বাধা দেওয়ার এই অভিনব কৌশলটি কেবল স্তন ক্যান্সার নয়, বরং অন্যান্য আরও অনেক ধরণের ক্যান্সারের মেটাস্ট্যাসিস রোধ করার জন্য একটি দারুণ প্রতিশ্রুতিশীল পদ্ধতি। ভবিষ্যতে বিশদ ক্লিনিক্যাল গবেষণার মাধ্যমে এই অণুগুলোর সক্ষমতা প্রমাণিত হলে তা ক্যান্সার চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে।
(এই গবেষণাপত্রটি bioRxiv-এ প্রিপ্রিন্ট হিসেবে আছে। এখনো পিয়ার রিভিউড জার্নালে প্রকাশিত হয়নি।)
সূত্র – Science Bee
