চট্টগ্রাম : নায়েব সাজ্জাদানশীন ও মোন্তাজেমে দরবারে গাউছুল আজম আলহাজ্ব সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী বলেছেন, কারবালা কেবল একটি দুঃখগাঁথা বা কান্নার ইতিহাস নয়। কারবালা হলো ইসলামকে পুনর্জীবিত করার এক অনন্য মহাকাব্য। সাইয়্যেদুশ শুহাদা জান্নাতের যুবকদের সর্দার হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) কারবালার তপ্ত বালুচরে নিজের এবং আহলে বাইতের পবিত্র রক্ত দিয়ে ইসলামের মূল স্তম্ভ ন্যায়, সত্য এবং আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যখন খেলাফতের পবিত্র আদর্শকে কলুষিত করে রাজতন্ত্র ও স্বৈরাচার চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল, তখন ইমাম হোসাইন আপোষ করেননি। রোববার ( ১২ জুলাই ) রাতে আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী (শাহ এমদাদীয়া) এবং ফটিকছড়ি মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের যৌথ আয়োজনে আন্তর্জাতিক শোহাদায়ে কারবালা মাহফিলে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম মাহফিল অনুষ্ঠনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী কারবালার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ইমাম হোসাইন শিখিয়েছেন বাতিলের শক্তি যতই বিপুল হোক না কেন, হকের পক্ষে অটল থাকাই মুমিনের আসল পরিচয়। মাইজভাণ্ডারী দর্শনের সাথে কারবালার শিক্ষার নিবিড় যোগসূত্র বর্ণনা করে তিনি আরও বলেন, গাউসুল আজম হযরত মাওলানা শাহ সুফি সৈয়দ আহমদুল্লাহ মাইজভাণ্ডারী যে তরিকায়ে মাইজভাণ্ডারিয়া প্রবর্তন করেছেন, তার মূল ভিত্তি হলো প্রেম, বিশ্ব মানবতা এবং আহলে বাইতের প্রতি অবিচল ভালোবাসা।
আমাদের এই সিলসিলার মূল শিক্ষা হলো নফস বা ভেতরের কুপবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করা। কারবালার বাহ্যিক জিহাদ আর মাইজভাণ্ডারী দর্শনের আভ্যন্তরীণ আত্মশুদ্ধির জিহাদ আসলে একই সূত্রে গাঁথা; তা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সত্যের ওপর অবিচল থাকা।
এসময় তিনি আরও বলেন, আজকের আধুনিক পৃথিবীতে যখন পরমতসহিষ্ণুতার অভাব, হিংসা-বিদ্বেষ, আধ্যাত্মিক শূন্যতা গ্রাস করছে, তখন কারবালার শিক্ষা ও ইমাম হোসাইন-এর চরিত্র আমাদের সবচেয়ে বড় পাথেয়। অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করা, মজলুমের পাশে দাঁড়ানো, মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার শিক্ষাই আমাদের আজকের মাহফিল থেকে গ্রহণ করতে হবে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী (শাহ এমদাদীয়া) বিশ্বব্যাপী এই সুমহান বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব সফলভাবে পালন করছে। এই মাহফিল প্রমাণ করে, দূরত্বের দেয়াল ভেঙে আহলে বাইতের ভালোবাসা আমাদের সবাইকে এক কাতারে শামিল করতে পারে।
মাহফিলে বিশ্বের ৫টি দেশ থেকে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামিক স্কলাররা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন-ভারত থেকে খানকায়ে মোনয়েমীয়ার (পাটনা) সাজ্জাদানশীন হযরতুলহাজ্ব আল্লামা প্রফেসর ড. শাহ সৈয়দ শামীমুদ্দীন আহমদ মোনয়েমী এবং নাগপুরের আল জামেয়াতুর রজবীয়া দারুল উলুম আমজাদীয়ার শায়খুল হাদিস হযরতুলহাজ্ব আল্লামা মুফতী ফয়েজ আহমদ মিসবাহী, ইসলামিক ফোরাম অব কানাডার প্রেসিডেন্ট হযরতুলহাজ্ব আল্লামা শায়খ ফয়সাল হামিদ আবদুর রাজ্জাক, পাকিস্তান থেকে দরবারে মহরা শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরতুলহাজ্ব আল্লামা পীর মুজতবা ফারুক গুল বাদশা, শ্রীলঙ্কা থেকে আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্কলার হযরতুলহাজ্ব আল্লামা হাফিজ এহসান ইকবাল কাদেরী এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ইমাম আহমদ রেজা অ্যাডুকেশনাল ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা হযরতুলহাজ্ব আল্লামা মুসা রেজা কাদেরী।
মাহফিলের শেষে বিশ্বশান্তি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, দেশ-জাতির কল্যাণ কামনা করে আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন আওলাদে রাসুল, সাজ্জাদানশীনে দরবারে গাউছুল আজম, রাহনুমায়ে শরীয়াত ও তরীকত আলহাজ্ব হযরত মওলানা শাহ ছুফী সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী (ম.)। অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচারিত এই মাহফিলে দেশ-বিদেশের হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবং মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকার অনুসারীরা যুক্ত হয়ে এই আয়োজনের অংশীদার হন।
