বুধবার, জুলাই ২৯, ২০২৬

চলতি অর্থবছরে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

মার্কিন শুল্ক সম্পর্কে মন্ত্রী জানিয়েছেন শুল্ক অপরিবর্তিতই রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি : সংগৃহীত

 

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জিত হলে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়াবে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ রোববার ২৬ জুলাই সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণবিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বর্তমান সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে রপ্তানি খাতে প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তবে নতুন সরকারের ব্যবসাবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ, ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং একাধিক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা অগ্রসর হওয়ায় চলতি অর্থবছরে রপ্তানি ঊর্ধ্বমুখী হবে বলে সরকার আশাবাদী।
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে ৬৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য ছিল ৫৫ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রপ্তানির লক্ষ্য ছিল ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। তবে অর্থবছর শেষে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৫৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রপ্তানি ৭ বিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ ছিল।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আগের অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরে রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়নি। কয়েক বছর ধরেই রপ্তানি খাতে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। তবে চলতি অর্থবছরে সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান  যুদ্ধ এবং উন্নত দেশগুলোতে ভোগ ও চাহিদার প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার কারণে প্রতিকূলতা সৃষ্টি হওয়ায় সরকার রপ্তানিমুখী ব্যবসা উৎসাহিত করতে ইতিমধ্যে বাজেটে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার নানা প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে, যাতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয় এবং এর ইতিবাচক প্রভাব দ্রুত রপ্তানি খাতে প্রতিফলিত হয়। রপ্তানিকারকদের সহায়তায় সরকার আরও কিছু উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা সম্পন্ন হওয়ার আশা রয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গেও শিগগিরই এফটিএ চূড়ান্ত হতে পারে।

তিনি জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও চার থেকে পাঁচটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে এফটিএ আলোচনার প্রস্তুতিও চলছে। এ লক্ষ্যে উভয় পক্ষের আলোচক দল ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মার্কিন শুল্ক পরিস্থিতিতে বাস্তবিক কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জন্য ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক (রেসিপ্রোকাল) শুল্ক ঘোষণা করেছিল। পরে তা ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। কিন্তু মার্কিন উচ্চ আদালতের এক রায়ের পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়।

এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেকশন ১২২-এর আওতায় ভারসাম্যহীন পরিশোধ (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট) পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পান। এ ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পাঁচ মাস কার্যকর থাকতে পারে, এরপর কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সেকশন ৩০১-এর আওতায় শ্রম-সংক্রান্ত ইস্যুতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাস্তবে শুল্কের হারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের ১০ শতাংশ শুল্কের জায়গায় নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে একই ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে। এটি শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়, প্রায় ৬০টি দেশের জন্যই প্রযোজ্য হয়েছে, যার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যও রয়েছে। তাই নতুন করে বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সম্পর্কিত খবর

বিএনপি দেশকে ভালো অবস্থানে নিয়ে আসে, আর আওয়ামী লীগ পরিকল্পনাগুলো ধ্বংস করে দেয় : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, আওয়ামী লীগ সবসময় দেশকে ধ্বংস করে দিয়ে যায়, আর বিএনপি...

আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান

ছবি : সংগৃহীত   গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বলেছেন, দেশের আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং এই খাতের বিকাশ দেশের সামগ্রিক...

চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেন আদালত

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সদরঘাট এলাকায় শিশু ধর্ষণ মামলার রায়ে মো.আকতার সর্দার (২৪) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার ( ২৬ জুলাই )...

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাস্টার সুফি নূরুল ইছলামের ইন্তেকাল

চট্টগ্রাম : রাংগুনিয়ার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক পুরস্কারপ্রাপ্ত মাস্টার সুফি মুহাম্মদ নূরুল ইছলাম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (২৬ জুলাই) সকাল...

দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেড

চট্টগ্রাম, ২২ জুলাই: মানবিক দায়িত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে রাঙ্গুনিয়ার বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেড। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গুনিয়া উপজেলার...

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ বর্তমানে জনস্বস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ : বিভাগীয় কমিশনার

চট্টগ্রাম : পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম, পরিচ্ছন্ন শহর, সবুজ নগর, প্রফুল্ল মন, সুস্থ জীবন’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের উদ্যোগে...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত