শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানালেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফাইল ফটো : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান

 

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের অবদানের কথা স্মরণ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। একই সঙ্গে বাহিনী দুটির কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা ও নিয়োগগত উপযুক্ততাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। আজ রোববার ২৩ আগস্ট বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যোগ্য কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদোন্নতির জন্য ‘নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। একই দিনে বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অপারেশনাল স্থাপনাও পরিদর্শন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। নির্বাচনী পর্ষদের কার্যক্রম শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে অ্যাডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। পরে তাকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। এই সময় নৌবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে তার পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন।

নির্বাচনী পর্ষদের বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছাত্র-জনতা এবং ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন আন্দোলনে হতাহতদের অবদানও কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে নৌ ও বিমান বাহিনীর শহীদ এবং সব বীর সেনানীর আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পদোন্নতির বিষয়ে সরকারপ্রধান বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থেকে কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিয়োগগত উপযুক্ততার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার ক্ষেত্রেও নৌ ও বিমান বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের প্রয়োজনে নৌ ও বিমানবাহিনীর এই অবদানের জন্য দুই বাহিনীর প্রধানসহ সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধনের পর বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অপারেশনাল স্থাপনা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথমে ঢাকা সেনানিবাসে আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে স্থাপিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচন করেন তিনি। পরে নবউন্মোচিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এরপর বিমানবাহিনীর এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের মাধ্যমে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান দিয়ে শত্রুবিমানকে বাধা দেওয়ার কার্যক্রম দেখেন তিনি। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে মানববিহীন আকাশযানের সরাসরি সম্প্রচারিত দৃশ্যের মাধ্যমে হেলিকপ্টারে সেনাসদস্য প্রবেশের কার্যক্রমও অবলোকন করেন। পরে বিমান বাহিনীর এ্যারোস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্সের বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এই সময় বিমানবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় প্রস্তুত বিভিন্ন ধরনের মানববিহীন আকাশযান, ড্রোন, কামিকাজে ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং উল্লম্বভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণে সক্ষম উড়োজাহাজ প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী একটি কোয়াডকপ্টারের উড্ডয়নও প্রত্যক্ষ করেন। নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় আধুনিক উড্ডয়ন ব্যবস্থা তৈরি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

এই সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত খবর

উত্তমকুমার বাংলা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য এক অধ্যায়

চট্টগ্রাম : উত্তমকুমার বাংলা সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। দশকের পর দশক, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁর অটল অবস্থান সমস্ত বাঙালির অন্তর জুড়ে। মৃত্যুর প্রায়...

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সাথে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাৎ

ছবি : সংগৃহীত   ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর ও আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা যাতে দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করতে...

আজকে “দর্পণ” নাটক এর ১ম মঞ্চায়ন

আজ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রবিবার সন্ধ্যা সাতটায় থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম মিলনায়তনে কথক নাট্যমঞ্চের নতুন প্রযোজনা মোহিত চট্টোপাধ্যায় রচিত " দর্পণ" নাটক এর ১ম মঞ্চায়ন...

কক্সবাজারে ট্রেনে যাতায়াতের চাহিদা বাড়ায় যুক্ত হচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করা মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এটি আগামী...

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় পুনরায় সার উৎপাদনে যাচ্ছে সিইউএফএল

চট্টগ্রাম : চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ইউরিয়া সারের প্রধানতম কাঁচামাল অ্যামোনিয়া গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় পুনরায় সার উৎপাদনে যাচ্ছে এবং মেকানিক্যাল ত্রুটি সারিয়ে...

একনেকে ১২টি প্রকল্প অনুমোদিত : রাজধানীতে ৩টি নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প

ছবি - সংগৃহীতআজ বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত একনেকের বৈঠকে রাজধানী ঢাকায় তিনটি মেট্রোরেলসহ মোট ১২টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত