নয়া দিল্লি, ভারত : রবিবার ছুটির দিন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে। দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সত্য নিকেতনে হুড়মুড়িয়ে আচমকা ভেঙে পড়ল একটি ছয়তলা বাড়ি। বাড়িটি পেইং গেস্ট বা অংশীদারী আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হত বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার সময় প্রায় ৫০জন ওই বিল্ডিংয়ে ছিলেন বলে খবর। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও বহু মানুষের আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে দমকল, পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চলছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুর প্রায় দেড়টা নাগাদ আচমকাই ভেঙে পড়ে ছয়তলা বাড়িটি। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা ধুলোয় ভরে যায়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় অন্তত ১২টি ইঞ্জিন। ধ্বংসস্তূপ সরাতে কাজে লাগানো হয়েছে এক্সকাভেটর। আরও ভারী যন্ত্রপাতি আনা হচ্ছে। উদ্ধারের সংখ্যা নিয়ে অবশ্য প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্র থেকে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গিয়েছে। সরকারি প্রতিনিধির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ছ’জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশের তরফে তিন জনকে উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ঠিক কতজন ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সত্য নিকেতন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে অবস্থিত। ফলে ওই এলাকায় অনেক পড়ুয়া থাকেন। রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় ওই পিজিতে অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি পড়ুয়া ছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের। এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, দুর্ঘটনার সময় বাড়িটির ভিতরে প্রায় ৫০ জন পড়ুয়া থাকতে পারেন। যদিও প্রশাসনের তরফে এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক পড়ুয়া সংবাদসংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে সাহায্যের জন্য চিৎকার শুনতে পেয়েছেন তিনি। উদ্ধারকারী দল পৌঁছনোর আগেই স্থানীয়রা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন।
দুর্ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চলছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাশের বাড়িটিও খালি করে দেওয়া হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা প্রত্যেককে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য সবরকম চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
তবে, কী কারণে ছয়তলা বাড়িটি ভেঙে পড়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত জোরকদমে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।
