আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সুস্পষ্ট দাবি। আমরা মনে করি এই যে ব্যর্থতা, সার্বিকভাবে এই ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জ্বালানি মন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।’ আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সিএ ভবনসংলগ্ন এলাকায় এনসিপির আসন্ন গণবিক্ষোভ কর্মসূচি উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন সমাবেশে নাহিদ ইসলাম এ দাবি জানান।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, গত সাত মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও জনগণের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না। বরং সংবিধান কাটাছেঁড়া করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের দায়িত্বে থাকার নৈতিক অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। জ্বালানি খাতের ব্যর্থতা তুলে ধরে তিনি বলেন, জ্বালানি খাতেও গত সাত মাসে সরকার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। জ্বালানিমন্ত্রীকে কথা বলতেও দেওয়া হয় না, তিনিও এখন কথা বলেন না। এ অবস্থায় তাঁরও মন্ত্রিসভায় থাকার অধিকার নেই।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, মন্ত্রিসভায় আরও অনেকের ব্যর্থতার তালিকা দীর্ঘ হতে পারে। তবে আপাতত এই দুই মন্ত্রীকে সরিয়ে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা উচিত। এর আগে তথ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েক দিন আগে একজন প্রতিমন্ত্রীকেও দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। কিন্তু যাঁদের দায়িত্বে সবচেয়ে বেশি অবহেলার অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে না। আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির আঁতাতের অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি ও সরকারের সঙ্গে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের সমঝোতার অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক নিজেদের দিকে টানতে নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া, মামলা-বাণিজ্য ও ব্ল্যাকমেল করার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। নাহিদের দাবি, এখনো আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে একধরনের সমঝোতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করা হচ্ছে। গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়েও সরকার কী করবে, তা স্পষ্ট করতে পারেনি।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার বন্দোবস্তের পরিবর্তন হয়নি। শুধু সরকার বা ব্যক্তির পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, রাষ্ট্রের বিদ্যমান বন্দোবস্তের পরিবর্তন করতে হবে। সরকারের প্রতি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় আখতার হোসেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তিন দফা দাবিতে গণবিক্ষোভের ডাক দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা। আগামী ৩০ অক্টোবর দুপুর ৩টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান তারা। এনসিপির তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ; একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের গণ রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং সাইবার আইনসহ ‘সব কর্তৃত্ববাদী আইন’ বাতিল করা।
