নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটান ফেডারেল কোর্টে আজ কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে আনা হয়েছে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। হেলিকপ্টারে করে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটান ডিটেনশন সেন্টার থেকে কোর্টে নিয়ে আসা হয় তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে। হাতকড়া পরা অবস্থায়, বেইজ রঙের জামা গায়ে, মাদুরোকে দেখা গিয়েছে সশস্ত্র অফিসারদের কড়া পাহারার মধ্যে।
ব্যারিকেড, স্নাইপার, হেলিকপ্টার টহল সব মিলিয়ে যেন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি। সাংবাদিকদের লম্বা লাইন, প্রতিবাদকারী এবং সমর্থকদের ভিড়। মাদুরোর সমর্থকরা ‘কিডন্যাপিং’ বলে চিৎকার করছেন, অন্যদিকে ভেনেজুয়েলীয় প্রবাসীরা উল্লাস করছেন। কোর্টে মাদুরোর আইনজীবীরা সম্ভবত নট গিল্টি প্লি করবেন এবং জামিনের আর্জি জানাবেন, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জামিন মেলা কঠিন।
মামলায় সাজা হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে সাবেক ভেনিজুয়েলিয় প্রেসিডেন্টের। এদিকে, নিউ ইয়র্কে সকাল ১০টায় রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে। রাশিয়া এবং চিনের সমর্থনে এই বৈঠক। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ মার্কিন অভিযানকে ‘আগ্রাসন’ এবং ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ বলে নিন্দা করেছেন।
রাষ্ট্রসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, এটি ‘বিপজ্জনক নজির’ সৃষ্টি করেছে। রাশিয়া-চিনের মতো দেশগুলো মার্কিন অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। কিউবা, কলম্বিয়া, ইরানও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা, এল সালভাদরের মতো ট্রাম্প-মিত্র দেশগুলো এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে।
