‘মানুষের ডাকে ও সময়ের দাবিতে’ তিনি নির্বাচনী মাঠে জানিয়ে সাঈদ আল নোমান বলেন, নিজের রাজনৈতিক পদ পদবি বা কোন জায়গায় পৌঁছার অভিলাষে আমি এখানে দাঁড়ানো নই। আমি সারাজীবনের জন্য মানুষের প্রতি কমিটেড। শুধু ১২ তারিখের জন্য না।
সুযোগ ও সময় পেলে বাবা প্রয়াত রাজনীতিবিদ আবদুল্লাহ আল নোমানের দেখানো পথে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমান।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজারে একটি রেস্টুরেন্টে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে এক মত বিনিময় সভায় তিনি এই আশার কথা জানান।
সাঈদ আল নোমান বলেন, “৫ বছরের মধ্যে আমার উদ্যোগ সামনে চলে আসতে হবে। সফল হব কিনা তা আমিও জানি না। কিন্তু চেষ্টা দৃশ্যমান হতে হবে। বাণিজ্যিক রাজধানীর ১৬ দফা আবার বাবা ২০০৩ এ কেবিনেটে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে পেশ করেছিলেন।
“দেশনেত্রী কেবিনেটে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করেছিলেন। ১৬ দফার একটার প্রস্তাবনা আমার বাবা নিজ হাতে লিখে ম্যাডামের কাছে পেশ করেছিলেন। এটা হলো একটা উদ্যোগ, একটা প্রচেষ্টা। কিন্তু বাকি ২২ বছর আমরা চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে পারি নাই। যদি সময় সুযোগ আমরা পাই, সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে চট্টগ্রামকে আসল অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপ দিতে হবে।”
“আমার যে কর্তব্য সেটা সঠিকভাবে করতে পারব কিনা সেই জায়গা থেকে খুব ভয় কাজ করছে। আমার কোন ভুলে যেন মানুষের কোন বিপদ না হয়। আমার ভুল হলে আপনারা পথ দেখাবেন।”

তিনি বলেন, “সামনের দিনগুলোতে পলিসি মেকিং প্রসেসে কি অবদান রাখতে পারি বা রাখার কোন সম্ভাবনা ও যোগ্যতা আছে কিনা সেই দিকটি জনগণের অনেকগুলো বিবেচনার মধ্যে একটি বিবেচনার বিষয়। মানুষের জন্য কোনটা উপকারী ও টেকসই উন্নয়ন সেটাই সংসদের বড় একটা কাজ। নির্বাচিত হতে পারলে সেই লক্ষ্যে কাজ করব।”
সাঈদ আল নোমান বলেন, “প্রথম দিন হালিশহরের সাধারণ মানুষ বলেছিল, পানির ও রাস্তার সমস্যা এবং কিশোর গ্যাংয়ের কথা। বলেছিল, খুবই বিপদে আছি। এটা অনেক দিনের একটা প্রাকটিস হয়ে গেছে আমাদের শহরে।
নিজ নির্বাচনী এলাকার মধ্যে হালিশহর-পাহাড়তলিতে কোন সরকারি হাসপাতাল না থাকা, জলাবদ্ধতার সমস্যা, বিধস্ত রাস্তাঘাট মেরামতে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে ভাবনার কথা জানতে চাইলে সাঈদ আল নোমান বলেন, “বন্দর শুধু জাহাজ আসবে আর যাবে এরকম কিছু না। বন্দরে আরো অনেক একটিভিটি আছে। চট্টগ্রামের গুরুত্ব রাষ্ট্রীয়ভাবে অনেক বিনিয়োগ দরকার।
“আমার প্রথমদিন থেকে একটি বক্তব্য ছিল আমাদের নেতৃবৃন্দের কাছে, আমার মিছিল বড় হতে হবে না। দয়া করে আমার মিছিলে যেন কোন কিশোর না থাকে। তাদের রাজনীতি ও মিছিলে অংশ নেবার বয়সও হয়নি, প্রয়োজনও নেই।”

উন্নয়ন কাজে সমন্বয়হীনতার সমস্যার সমাধান নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আগের মেয়ররা একই কথা বলে যাচ্ছেন। এটা মূলত সিটি করপোরেশন, সিডিএ, ওয়াসার মত সংস্থাগুলোকে একটা জায়গায় আসতে হবে। পলিসির কোন রোল থাকলে সেই রেকমেনডেশন আমি অবশ্যই দিব।”
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ের পথে কোন চ্যালেঞ্জ দেখছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জয় পরাজয় নিয়ে যিনি ভাবলেন তিনি প্রথমে নিজের কাছে হেরে গেলেন। যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, তাহলে মানুষের ভোটে যে জিতবে তাকেই সাধুবাদ দিব। অন্য কেউ হলে তাকে সহযোগিতা করব কাজগুলো করার জন্য।”
তার দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে কিভাবে জবাবদিহি করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সেজন্যই গণতন্ত্র ও নির্বাচন। যদি নির্বাচিত করেন, আমি শুধু বাবার পুত্র নই। নিজেরও কিছু কাজ আছে। মানুষ যদি মনে করে আপনি কিছু করতে পারেননি তাহলে তারা পাঁচ বছর পর সুযোগ পাবেন আরেকজনকে ভোটের মাধমে নিয়ে আসার।”
অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এ এম নাজিম উদ্দিনসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কমল দাশ
নির্বাহী সম্পাদক, চট্টগ্রাম মেইল।
