মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ইরানের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন “আজ এই পাগলাটে নোংরাদের কী হয় দেখো”। এরপরই ইরানের স্টেট টেলিভিশন দাবি করেছে যে আজ রাতেই আমেরিকা একাধিক MOAB বোমা ফেলে ইরানে চরম আঘাত হানবে। MOAB হলো আমেরিকার সবচেয়ে বড় নন-নিউক্লিয়ার বোমা, যার ওজন প্রায় ২১,০০০ পাউন্ড। এটি ‘মাদার অফ অল বম্বস’ নামে পরিচিত, যা বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম।এই দাবি ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত পারমাণবিক আক্রমণের সম্ভাবনার কথা কোনো পক্ষ হতে জানা যায়নি।
ট্রাম্পের পোস্টে বলা হয়েছে, “আমরা ইরানের টেররিস্ট রেজিমকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করছি সামরিক, অর্থনৈতিক সব দিক থেকে। তাদের নৌবাহিনী শেষ, বিমানবাহিনী নেই, মিসাইল-ড্রোন সব ধ্বংস হচ্ছে, নেতারা পৃথিবী থেকে মুছে গেছে। আমাদের অতুলনীয় শক্তি, অসীম গোলাবারুদ ও সময় আছে, আজ এই পাগলাটে নোংরাদের কী হয় দেখো।” ইরানি স্টেট টিভি এই হুঁশিয়ারিকে ‘গুরুতর ভুল’ বলে উল্লেখ করেছে।
ইরানি প্রশাসন দাবি করেছে, ট্রাম্প MOAB বোমা ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ নিউক্লিয়ার স্টোরেজ, ডেটা সেন্টার ও বাঙ্কার ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছে। এই বোমা ফোর্ডো, কোম বা অন্যান্য গোপন স্থানে ফেলা হতে পারে। এমন ঘটলে ইরানের নতুন নেতৃত্ব প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে। তারা বলেছে, আমেরিকার এই আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা, তেলের দাম বাড়ানো ও প্রক্সি গ্রুপের মাধ্যমে হামলা চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
চলমান এই যুদ্ধে আমেরিকা তাদের হাতে থাকা অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইরানের সামরিক সাইট, নৌবাহিনী ও নেতৃত্ব ধ্বংস করার দাবি করে আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, “৪৭ বছর ধরে তারা নিরীহ মানুষ মারছে, এখন আমি ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাদের মারছি এটা আমার সম্মানের বিষয়।” কিন্তু ইরান বলছে, এটা আগ্রাসন, তারা আত্মরক্ষার অধিকার ব্যবহার করবে।
