পাকিস্তানের একটি বিয়েবাড়িতে নৃশংস ও ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণ হামলা হয়েছে। বিয়েবাড়ির আনন্দ নিমেষে বদলে গেল বিষাদে। আনন্দের জায়গা হয়ে গেলো আতংকের স্থান বিয়েবাড়ির মেঝেতে পড়ে থাকল চাপ চাপ রক্ত। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার এই ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে। ওই বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত পাঁচ জন। আহত প্রায় ২৫ জন। পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সন্দেহের তির তেহরিক-ই-তালিবানের দিকে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তান পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করা এক তালিব এবং শান্তি কমিটির সদস্য।
স্থানীয় পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বিস্ফোরণ ঘটেছে সরকার সমর্থিত শান্তি সংগঠনের প্রধান নুর আলম মেহসুদের বাড়িতে। উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার ডেরা ইসমাইল খান জেলায় তাঁর বাড়ি। আত্মঘাতী বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেরা ইসমাইল খান জেলা পুলিশের আধিকারিক সাজ্জাদ আহমেদ সাহিবজ়াদা। এই ঘটনায় বিয়েবাড়িতে আতঙ্ক ছড়ায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় বিয়েবাড়িতে নাচগান চলছিল। সে সময় আচমকা বিস্ফোরণে ভেঙে পড়ে ছাদ। ভগ্নস্তূপে আটকে পড়েন বহু অতিথি। উদ্ধার করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় পুলিশ এবং দমকলকে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক জন ‘ভাল তালিব’। যে তালিবেরা আত্মসমর্পণ করেন, তাঁদের পাকিস্তানে বলা হয় ‘ভাল তালিব’। বিস্ফোরণের পরে আহতদের দ্রুত কাছের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করানো হয়। সেখানে ভর্তি কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন শান্তি কমিটির নেতা ওয়াহিদুল্লা মেহসুদ ওরফে জিগরি মেহসুদ।
এখনও কোনও জঙ্গি গোষ্ঠী এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের একাংশের সন্দেহ, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে তেহরিক-ই-তালিবান। ‘ভাল তালিব’ এবং শান্তি কমিটির সদস্যদের একটি শিক্ষা দেওয়ার জন্য তারা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা অনুমান করছেন।
