চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের আস-সালাম টাওয়ার। গত ২৭ জানুয়ারি দুপুর ১টা। এনসিপি নেতা পরিচয়ে সাত যুবক প্রবেশ করেন ‘সাজেদা ট্রেডিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রিসিপশনিস্ট রাতুলকে লক্ষ্য করে তারা বারবার চাপ প্রয়োগ করছেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঊর্ধ্বতনদের ফোনে জানানোর চেষ্টা করেন ওই কর্মচারী।
প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আক্তার আলী বাচ্চুর অভিযোগ, শুরু থেকেই যুবকরা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে আসছিলেন। এক পর্যায়ে তারা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিকেলে আরও বড় বাহিনী নিয়ে আসার হুমকি দিয়ে চলে যান তারা।
হুমকি অনুযায়ী বিকেল ৫টায় আবারও হানা দেয় ওই চক্রটি। তবে এবার তারা একা নন, সাথে ছিল পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, ডবলমুরিং থানাধীন দেওয়ানহাট ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহেদ উল্লাহ জামান সিভিল পোশাকে একদল পুলিশ সদস্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী রাতুল জানান, দরজা খুলতে দেরি হওয়ায় পুলিশ ও এনসিপি নেতারা তাকে মারধরও করেন। তবে বিভিন্ন রুমে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ কিছু না পেয়ে শেষ পর্যন্ত খালি হাতেই ফিরে যায় পুরো দলটি।

এদিকে, সিসিটিভি ফুটেজে সরব উপস্থিতি থাকলেও ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছেন ফাঁড়ি ইনচার্জ জাহেদ উল্লাহ জামান। অন্যদিকে, ডবলমুরিং থানার ওসি জামাল উদ্দিন খান দাবি করেছেন, এমন কোনো অভিযানের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
তবে এনসিপি সদস্য আজাদ ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এনসিপির মহানগর কমিটির কয়েকজন সদস্য ও যুবশক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব মীরসহ অন্যরা সেখানে আওয়ামীলীগ নেতা ধরতে গিয়েছিলেন এবং বিকেলে পুলিশের দুই গাড়ি সদস্যও তাদের সাথে ছিল।
এদিকে ঘটনার পর সড়কেই এনসিপির দুই নেতার মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা দেখা যায়। যেখানে চাঁদা দাবি এবং আওয়ামী লীগ নেতাকে শেল্টার দেওয়া নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করতে শোনা যায়।
রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে পুলিশকে সাথে নিয়ে এ ধরনের অভিযানে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সিসিটিভি ফুটেজ থাকার পরও প্রশাসনের অস্বীকার নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
