শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

আফগানিস্তানের কারাগারে নারী বন্দী : যৌন নির্যাতনের ভয়াবহ শীকার

ভারত সহ যেসকল দেশ তালেবানদের নৈতিক সমর্থন দিচ্ছে তাদের উচিত নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা।

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক

আফগানিস্তানের তালেবান কারাগারে নারী মানবাধিকার কর্মীদের ওপর ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের চিত্র: একটি বিশেষ প্রতিবেদন

আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিতে নারী মানবাধিকার কর্মীদের ওপর চলা অমানবিক নির্যাতনের এক লোমহর্ষক চিত্র উঠে এসেছে ‘Azadi-e Zan’ নামক সংস্থার একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। এই প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ারের (UN Special Rapporteur) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
পদ্ধতিগত যৌন নির্যাতন: কারাগারে আটক নারী মানবাধিকার কর্মীদের ওপর তালেবানরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে যৌন নির্যাতন চালায়। এর মধ্যে রয়েছে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করা, শ্লীলতাহানি, যৌনাঙ্গে ইলেকট্রিক শক দেওয়া, ধর্ষণ এবং গণধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ। অনেক ক্ষেত্রে ‘শাম ম্যারেজ’ বা ভুয়া বিয়ের নামে নারীদের বারবার ধর্ষণ করা হয়।
ভিডিও ধারণ ও মানসিক চাপ: নির্যাতিত নারীদের ভিডিও রেকর্ড করা হয় যাতে মুক্তি পাওয়ার পর তারা সামাজিক কলঙ্ক ও লোকলজ্জার ভয়ে মুখ খুলতে না পারে। অনেক ক্ষেত্রে অন্য বন্দীদের ওপর চলা নির্যাতন দেখতেও তাদের বাধ্য করা হয়।
নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা: প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই নির্যাতনের শিকার নারীদের অধিকাংশই হাজারা (Hazara) বা তাজিক (Tajik) জাতিগোষ্ঠীর। পশতু নারীদের আটক বা নির্যাতনের কোনো ঘটনা এই নির্দিষ্ট নথিতে পাওয়া যায়নি, যা জাতিগত বিদ্বেষের ইঙ্গিত দেয়।
সামাজিক কলঙ্ক ও আত্মহত্যার ঝুঁকি: আফগান সমাজে যৌন নির্যাতনের শিকার নারীদের প্রতি যে সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, তার ফলে মুক্তি পাওয়ার পর অনেক নারী চরম মানসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন। এই গ্লানি সহ্য করতে না পেরে অনেক নারী কারাগার থেকে ফেরার পর আত্মহত্যা করেছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসা ও সুরক্ষার অভাব: মাহরাম (পুরুষ অভিভাবক) ছাড়া চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় ভুক্তভোগী নারীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারছেন না। এছাড়া দেশ ত্যাগের জন্য পাসপোর্ট ও ভিসার উচ্চমূল্য (প্রায় ১০০০ ডলারের বেশি) তাদের পালানোর পথকেও রুদ্ধ করে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং দাতা সংস্থাগলোর পক্ষ থেকে এই নারীদের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল বা সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। তাদের দ্রুত নিরাপদ দেশে পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা এখন সময়ের দাবি।

তথ্যসূত্র:
এই তথ্যগুলো ‘Azadi-e Zan’ সংস্থা কর্তৃক জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ারের কাছে জমা দেওয়া “Sexual torture of women’s rights defenders in Taliban prisons” শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে সংগৃহীত।

সম্পর্কিত খবর

হাসপাতালের লাইন দীর্ঘ না করতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে: ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রাম : হাসপাতালে রোগীর চাপ কমাতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করে রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি...

মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

ছবি : সংগৃহীত   আজ রোববার ১৩ সেপ্টেম্বর বঙ্গভবনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল...

চট্টগ্রামে বকেয়া পরিশোধের দাবিতে গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের ‘পথে পথে প্রতিবাদ’

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের পাঁচ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া পরিশোধের দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ কর্মসূচি ‘পথে পথে প্রতিবাদ’। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল...

চট্টগ্রামে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ নিহত

ছবি : সংগৃহীত   চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় একটি মাইক্রোবাসের চার আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত সাতজন। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম...

সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সময় : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সময় হওয়ায় এসময়ে মশক নিধন ও জনসচেতনতা...

একনেকে ১২টি প্রকল্প অনুমোদিত : রাজধানীতে ৩টি নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প

ছবি - সংগৃহীতআজ বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত একনেকের বৈঠকে রাজধানী ঢাকায় তিনটি মেট্রোরেলসহ মোট ১২টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত