সোমবার, জুন ১, ২০২৬

আফগানিস্তানের কারাগারে নারী বন্দী : যৌন নির্যাতনের ভয়াবহ শীকার

ভারত সহ যেসকল দেশ তালেবানদের নৈতিক সমর্থন দিচ্ছে তাদের উচিত নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা।

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক

আফগানিস্তানের তালেবান কারাগারে নারী মানবাধিকার কর্মীদের ওপর ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের চিত্র: একটি বিশেষ প্রতিবেদন

আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিতে নারী মানবাধিকার কর্মীদের ওপর চলা অমানবিক নির্যাতনের এক লোমহর্ষক চিত্র উঠে এসেছে ‘Azadi-e Zan’ নামক সংস্থার একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। এই প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ারের (UN Special Rapporteur) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
পদ্ধতিগত যৌন নির্যাতন: কারাগারে আটক নারী মানবাধিকার কর্মীদের ওপর তালেবানরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে যৌন নির্যাতন চালায়। এর মধ্যে রয়েছে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করা, শ্লীলতাহানি, যৌনাঙ্গে ইলেকট্রিক শক দেওয়া, ধর্ষণ এবং গণধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ। অনেক ক্ষেত্রে ‘শাম ম্যারেজ’ বা ভুয়া বিয়ের নামে নারীদের বারবার ধর্ষণ করা হয়।
ভিডিও ধারণ ও মানসিক চাপ: নির্যাতিত নারীদের ভিডিও রেকর্ড করা হয় যাতে মুক্তি পাওয়ার পর তারা সামাজিক কলঙ্ক ও লোকলজ্জার ভয়ে মুখ খুলতে না পারে। অনেক ক্ষেত্রে অন্য বন্দীদের ওপর চলা নির্যাতন দেখতেও তাদের বাধ্য করা হয়।
নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা: প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই নির্যাতনের শিকার নারীদের অধিকাংশই হাজারা (Hazara) বা তাজিক (Tajik) জাতিগোষ্ঠীর। পশতু নারীদের আটক বা নির্যাতনের কোনো ঘটনা এই নির্দিষ্ট নথিতে পাওয়া যায়নি, যা জাতিগত বিদ্বেষের ইঙ্গিত দেয়।
সামাজিক কলঙ্ক ও আত্মহত্যার ঝুঁকি: আফগান সমাজে যৌন নির্যাতনের শিকার নারীদের প্রতি যে সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, তার ফলে মুক্তি পাওয়ার পর অনেক নারী চরম মানসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন। এই গ্লানি সহ্য করতে না পেরে অনেক নারী কারাগার থেকে ফেরার পর আত্মহত্যা করেছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসা ও সুরক্ষার অভাব: মাহরাম (পুরুষ অভিভাবক) ছাড়া চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় ভুক্তভোগী নারীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারছেন না। এছাড়া দেশ ত্যাগের জন্য পাসপোর্ট ও ভিসার উচ্চমূল্য (প্রায় ১০০০ ডলারের বেশি) তাদের পালানোর পথকেও রুদ্ধ করে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং দাতা সংস্থাগলোর পক্ষ থেকে এই নারীদের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল বা সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। তাদের দ্রুত নিরাপদ দেশে পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা এখন সময়ের দাবি।

তথ্যসূত্র:
এই তথ্যগুলো ‘Azadi-e Zan’ সংস্থা কর্তৃক জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ারের কাছে জমা দেওয়া “Sexual torture of women’s rights defenders in Taliban prisons” শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে সংগৃহীত।

সম্পর্কিত খবর

দেশবাসীকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন জনাব তারেক রহমান। মঙ্গলবার ২৬ মে...

চকরিয়ায় কিশোরীকে উদ্ধার করতে গিয়ে মারধরে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার

কক্সবাজার : কক্সবাজারের চকরিয়ায় অপহরণের শিকার এক কিশোরীকে উদ্ধার করতে গিয়ে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ ও মারধরের অভিযোগ ওঠায় মো. আরকানুল ইসলাম নামের পুলিশের এক...

বাংলাদেশের জন্য এডিবির ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা

বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতের লক্ষ্যে বাংলদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এডিবি। আজ...

ত্যাগ, সাম্য ও মানবিকতার মহিমায় আজ দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদ উল আযহা

আজ মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ উল আযহা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে ত্যাগের অনন্য শিক্ষা ধারণ করে বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা গভীর...

ফটিকছড়িতে ডুবন্ত শিশুদের বাঁচাতে গিয়ে খামার মালিক ও একটি শিশুর সলিল সমাধি

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। একদিকে দুই অবুঝ শিশুকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনার আনন্দ, অন্যদিকে চোখের পলকে তলিয়ে যাওয়া...

চট্টগ্রাম স্টেডিয়াম মাঠে ঈদ-উল আযহার জামাতে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদ-জামাত কমিটির উদ্যোগে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম মাঠে পবিত্র ঈদ-উল আযহার প্রধান জামাত...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত