বন্দরনগরী চট্টগ্রামে একটি কেন্দ্রে অপেক্ষামান ভোটাররা।
সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক রাষ্ট্র সংস্কার গণভোটের ভোটগ্রহণ। দীর্ঘ দেড় দশকের বঞ্চনা ও ভোট দিতে না পারার আপশোস কাটিয়ে উঠে আজ নিজেদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে ১২ কোটিরও বেশি মানুষ। রাজধানীর ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রাম সহ সারা দেশের প্রতিটি কেন্দ্র থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও ভোটারদের দীর্ঘ সারি জানান দিচ্ছে—এ এক অন্যরকম জাগরণের দিন। বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত ভোটারদের দাবি, উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট হচ্ছে। তারা বলছেন অন্য যেকোনো বারের তুলনায় এবারের ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন। তবে সবার কথা একই সত্য ও ন্যায়ের পথে এবং জনগণের জন্য কাজ করবে এমন প্রার্থী বেছে নিবেন তারা।
এবারের ভোটের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রতিটি ভোটারকে দুটি ব্যালট পেপার দেওয়া হচ্ছে। একটিতে তারা ২৯৯টি আসনের বিপরীতে ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে নিজেদের সংসদ সদস্য নির্বাচন করছেন; আর অন্যটিতে ‘রাষ্ট্র সংস্কার সংক্রান্ত সাংবিধানিক গণভোট’-এ নিজেদের মতামত দিচ্ছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে ‘নতুন বাংলাদেশের’ ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে। ফ্যাসিবাদের ছায়া কাটিয়ে এক গণতান্ত্রিক ভোরের অপেক্ষায় এখন পুরো জাতি।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। ঝুঁকি বিবেচনায় ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। নজিরবিহীনভাবে এবার মাঠে রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্য, যাদের দেওয়া হয়েছে বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা। এছাড়া পুলিশ, বিজিবি ও র্যাবের টহল দলগুলো প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের চারপাশ ঘিরে এক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে।
ইসি জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের ৪৫ শতাংশই তরুণ প্রজন্ম। তাদের রায়ই গড়ে দেবে আগামীর সংসদ। অন্যদিকে, প্রবাস থেকে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধারা’ পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়ে এই ঐতিহাসিক যাত্রায় অংশ নিয়েছেন। ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং আল-জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্সের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা কেন্দ্রগুলোতে সরাসরি উপস্থিত থেকে এই ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করছেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এবারর নির্বাচনে প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ থাকবে এবং অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার নিরাপত্তার সাথে সুষ্ঠু ভোট সম্পন্ন হবে। তিনি আরও বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে (প্রেস সচিবের ভাষ্য অনুসারে ১৮ ফেব্রুয়ারির পর কোনোভাবেই নয়) নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার ভার হস্তান্তর করা হবে। এখন পুরো দেশ ও জাতি উন্মুখ হয়ে আছে পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে এবং সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা জানার জন্য যেটা কিনা আজকে রাতের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে যাবে।
