বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬

নির্মম ও নৃশংস পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর পূর্ণ হলো আজ

চট্টগ্রাম মেইল ডেক্স

 

২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের ইতিহাসে কালো দিন। ৯ বছর আগের ২০০৯ সালের এই দিনে রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর সদর দফতরে (বর্তমান বিজিবি) ঘটে এক মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনা। বিদ্রোহী বিডিআর জোয়ানদের হাতে প্রাণ হারান ৫৮ জন সেনা সদস্য। আজ ও আগামীকাল তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবি।

বহুল আলোচিত এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় (পিলখানা হত্যা মামলা) ১৩৯ জনকে ফাঁসি, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মামলা হিসেবে পরিচিত।

কী ঘটেছিল সেদিন?

সেদিন সকাল ৯টা ২৭ মিনিটের দিকে বিজিবির বার্ষিক দরবার চলাকালে দরবার হলে ঢুকে পড়ে একদল বিদ্রোহী সৈনিক। এদের একজন তৎকালীন মহাপরিচালকের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে। এরপরই ঘটে যায় ইতিহাসের সেই নৃশংস ঘটনা। বিদ্রোহী সৈনিকরা সেনা কর্মকর্তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে তাদের পরিবারকে জিম্মি করে ফেলে। পুরো পিলখানায় এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চারটি প্রবেশ গেট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আশেপাশের এলাকায় গুলি ছুঁড়তে থাকে তারা।

বিদ্রোহীরা দরবার হল ও এর আশপাশ এলাকায় সেনা কর্মকর্তাদের গুলি করতে থাকে। তাদের গুলিতে একে একে লুটিয়ে পড়তে থাকেন সেনা কর্মকর্তারা। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর এ বিদ্রোহের অবসান হয়। পিলখানা পরিণত হয় এক রক্তাক্ত প্রান্তরে। পরে পিলখানা থেকে আবিষ্কৃত হয় গণকবর। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় সেনা কর্মকর্তাদের লাশ। ৩৬ ঘণ্টার এ হত্যাযজ্ঞে ৫৭ সেনা কর্মকর্তা, একজন সৈনিক, দুই সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী, ৯ বিজিবি সদস্য ও পাঁচজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন।

মামলা ও বিচারকার্য

এ ঘটনায় ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। পরে এসব মামলা নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তরিত হয়। মামলায় সিআইডি দীর্ঘ তদন্ত শেষে হত্যা মামলায় ২৩ বেসামরিক ব্যক্তিসহ প্রথমে ৮২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে সম্পূরক অভিযোগপত্রে আরও ২৬ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় আসামির সংখ্যা হয় ৮৫০ জন। এছাড়া বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় ৮০৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় সিআইডি। পরে আরও ২৬ জনকে অভিযুক্ত করে মোট ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

রাজধানীর পুরান ঢাকার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ইতিহাসের কলঙ্কজনক এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন, ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে (তিন বছর থেকে ১৭ বছর পর্যন্ত) কারাদণ্ড, ২৭৮ জনকে খালাস এবং চারজন আসামি বিচার চলাকালে মারা যাওয়ায় মামলার দায় থেকে তারা অব্যাহতি পায়।

আদালতের রায় ঘোষণার পর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে আসামিরা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল ও জেল আপিল করেন। এর মধ্যে ৬৯ জনকে খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। গুরুত্বপূর্ণ এ মামলার শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ উদ্যোগ নেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেন। দেশের ইতিহাসে আসামির সংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় এ মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে শুনানি শুরু হয়।

মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিতরা সবাই বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিডিআর) সদস্য ছিলেন। যাবজ্জীন কারাদণ্ডে দণ্ডিতদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু ও আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীও রয়েছেন। এর মধ্যে নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু ২০১৫ সালের ৩ মে রাজশাহী কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

হাইকোর্টের রায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫২ জন আসামির মধ্যে ১৩৯ জনের ফাঁসির রায় বহাল রাখেন। একইসঙ্গে আটজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও চারজনকে খালাস দেওয়া হয়। অন্যদিকে এ মামলার অন্যতম আসামি বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন পিন্টু হাইকোর্টের বিচার চলাকালীন সময়ে মারা যান।

এছাড়া বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন পাওয়া ১৬০ জন আসামির মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রাখেন হাইকোর্ট। এদের মধ্যে দু’জন আসামির মৃত্যু হয়েছে এবং ১২ জন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

বিডিআর পুনর্গঠন ও বিজিবি গঠন
পিলখানায় এই বিদ্রোহের ঘটনায় বিডিআরের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে যায়। শুরু হয় বিডিআর পুনর্গঠনের কাজ। বিডিআরের নাম, পোশাক, লোগো ও সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন করা হয়। বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরিবর্তন করা হয় বিদ্রোহের আইন।

পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সরকারিভাবে এ দিনটিকে ‘পিলখানা হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। এ দিবসটির স্মরণে দুই দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি পালন করবে বিজিবি। পিলখানায় বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শহীদ ব্যক্তিদের স্মরণে ২৫ ফেব্রুয়ারি (রোববার) শাহাদাত বার্ষিকী পালন করা হবে।

পিলখানায় বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শহীদের স্মরণে ২৫ ফেব্রুয়ারি (রোববার) শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হবে। এছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিগণ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সম্মিলিতভাবে তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবংবিজিবি মহাপরিচালক পুস্পস্তবক অর্পণ করবেন।

সম্পর্কিত খবর

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি বাদ, নতুন ৬ দফা দাবি পেশ ছাত্রদের

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি প্রত্যাহার করে নিয়েছে আন্দোলনরত উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা। তবে ছয় দফা দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে...

ফার্মের মুরগিদের জন্যই আপনি আজকে শিক্ষামন্ত্রী : হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা–৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, আমরা এমন একজন শিক্ষামন্ত্রী পেয়েছি যিনি স্ট্যান্ডবাজিতে...

প্রতিটি নিরন্ন মানুষের কাছে ইনশাআল্লাহ খাবার পৌঁছে দেবে তারেক রহমান : প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য

চট্টগ্রাম : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এর সরকার চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে আছে, থাকবে। দুর্গত মানুষের যেকোন প্রয়োজনে সরকার...

শুধু তোমার জন্য

শুধু তোমার জন্য কৌশিক ভট্টাচার্য্য তোমার আমার প্রথম দেখাটা মনে আছে? একটা ভিন্নরকম ব্যাপার ছিলো, তাই না| সমুদ্র দেখতে গিয়েছিলাম, তুমিও সেদিন সমুদ্রের ধারে জলকেলি করছিলে| চুপিসারে তুমি আমায় দেখছিলে পিছু...

চট্টগ্রাম কর্ণফুলীতে সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার ছড়িয়ে যুবক গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম কর্ণফুলী থানাধীন সাবেক স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ( ফেসবুকে) প্রকাশ এবং ভুয়া আইডি খুলে মানহানিকর তথ্য প্রচারের...

চট্টগ্রামে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের পাশে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে সিএমপি কমিশনার

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে চলমান ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানরত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। এরই লক্ষ্য চট্টগ্রাম মহানগরীর...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত